বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে হঠাৎ মৃ’ত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন ২৮ বছর বয়সী পিএইচডি গবেষক

ভারতের চণ্ডীগড়ের পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২৮ বছর বয়সী এক পিএইচডি গবেষকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এ ঘটনার পর শত শত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ক্যাম্পাসের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং নিহতের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

এনডিটিভির খবরে বলা হয়, নিহত গবেষকের নাম জ্যোতি। তিনি হরিয়ানার রেওয়ারি জেলার বাসিন্দা এবং পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের পিএইচডি গবেষক ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মঙ্গলবার সকালে হোস্টেল থেকে বিভাগে যাওয়ার পথে বৃষ্টির কারণে মূল সড়কে পানি জমে থাকায় জ্যোতি বিকল্প হিসেবে একটি কাঁচা পথ ব্যবহার করেন। এ সময় পাশের একটি বৈদ্যুতিক জংশন বক্স থেকে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে পড়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সেই বিদ্যুৎ প্রবাহের সংস্পর্শে এসে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর শত শত শিক্ষার্থী উপাচার্য অধ্যাপক রেনু ভিগের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। তারা ক্যাম্পাসের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার পাশাপাশি জ্যোতির পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

মঙ্গলবার গভীর রাতে জ্যোতির পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের পর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ১৬ লাখ রুপি আর্থিক সহায়তা এবং তার ভাইকে চাকরি দেয়ার ঘোষণা দেয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, জ্যোতির ভাই উচ্চমাধ্যমিক (১০+২) পাস এবং বৈদ্যুতিক বিষয়ে আইটিআই ডিগ্রিধারী। পাঞ্জাব সরকারের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে ইলেকট্রিশিয়ান পদে চাকরির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

জ্যোতির বাবা একজন কৃষক। পাশাপাশি তিনি হরিয়ানার একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে চালক হিসেবে কাজ করেন। তার মা গৃহিণী। সিনিয়র রিসার্চ ফেলোশিপের অর্থ দিয়ে জ্যোতি পরিবারের আর্থিক সহায়তা করতেন। এ ঘটনায় পুলিশ একটি মামলা (এফআইআর) দায়ের করেছে এবং মৃত্যুর কারণ ও দায় নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে।

চণ্ডীগড়ের সাংসদ মনীশ তিওয়ারিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জ্যোতির মৃত্যুতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করে চণ্ডীগড় প্রশাসন ও পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের প্রতি ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *