ভাইরাল পোস্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের লোগো ও একজন কর্মকর্তার ছবি ব্যবহার করে শিক্ষক নিয়োগে কমিটির মাধ্যমে নতুন ব্যবস্থা চালুর কথা বলা হয়েছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন, গেজেট, বিজ্ঞপ্তি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পোস্টে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে বিষয়টির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষা খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত সাধারণত শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর কিংবা সরকারি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। কোনো নতুন নীতিমালা কার্যকর হওয়ার আগে তা সরকারি ওয়েবসাইট, গেজেট বা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হয়। তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টের ভিত্তিতে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্তের নামে সম্পাদিত ছবি, পুরোনো তথ্য বা যাচাইবিহীন পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ফলে অনেকেই বিভ্রান্ত হন। তাই এ ধরনের তথ্য দেখলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট, সরকারি বিজ্ঞপ্তি অথবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
চাকরিপ্রার্থীদেরও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত যেকোনো তথ্যের জন্য শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির ওপর নির্ভর করতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট দেখে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা তথ্য প্রচার করা উচিত নয়।
এদিকে ভাইরাল পোস্টটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মতামত দেখা গেলেও, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে “কমিটির মাধ্যমে শিক্ষকের নিয়োগের নতুন উদ্যোগ” সম্পর্কিত দাবিটি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
যদি ভবিষ্যতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে, তাহলে সেটিই হবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের উৎস। ততক্ষণ পর্যন্ত যাচাইবিহীন তথ্য বা গুজব প্রচার না করে নিশ্চিত তথ্যের জন্য অপেক্ষা করাই হবে সবচেয়ে দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।