সকাল সকাল একটা লাইভ দেখে মনটাই খারাপ হয়ে গেলো! আসিফ নামের একজন ব্যক্তি লাইভে এসে দেখিয়েছেন, তাঁর এক আত্মীয়ের মৃ%ত সন্তানকে কীভাবে কারওয়ান বাজারের পদ্মা হাসপাতালের NICU-তে ফেলে রাখা হয়েছিল।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় বাচ্চাটি নাকি অনেক আগেই দুনিয়া থেকে চলে গেছে। অথচ এরপরও তাকে NICU-তে রাখা হয়েছিল! লাইভে দাবি করা হয়, সেখানে কোনো ডাক্তারও ছিলেন না। বরং প্রায় ২ লাখ টাকার বিল তৈরি করে রাখা হয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দেখার মতো দায়িত্বশীল কাউকেই নাকি সেখানে পাওয়া যায়নি।
একবার ভাবুন তো, সন্তান হারানোর পর একজন বাবা-মায়ের মানসিক অবস্থা কী হতে পারে! সেই সময়েও যদি হাসপাতাল থেকে এমন আচরণ পেতে হয়, তাহলে একজন সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
গতকালই ‘ভুয়া ডাক্তার’ নিয়ে যমুনা টিভির একটি প্রতিবেদন দেখলাম। এর আগে চট্টগ্রামে এমন অভিযোগও দেখেছি মাকে দেওয়ার কথা ছিল ইনজেকশন, অথচ ভুল করে শিশুকেই ইনজেকশন দেওয়া হয়েছে!
একটার পর একটা এমন ঘটনা সামনে আসছে। প্রশ্ন হচ্ছে মানুষ হাসপাতালেই বা কেন যায়? চিকিৎসা, নিরাপত্তা আর ভরসার জন্য।
এই বাচ্চাটাকে ২ লাখ টাকা দিলেও তো আর ফিরিয়ে আনা যাবে না! টাকা হারানোর কষ্ট একসময় হয়তো সামলানো যায়, কিন্তু সন্তান হারানোর শূন্যতা কি কোনো টাকা দিয়ে পূরণ করা সম্ভব?
আর যদি সত্যিই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি থেকে থাকে, তাহলে অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সংশ্লিষ্টদের ভয় দেখিয়ে বা প্রভাব খাটিয়ে চুপ করানোর চেষ্টা কেন হবে? অভিযোগের সত্যতা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়াই তো উচিত।
দেশের চিকিৎসাব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা যদি এভাবে বারবার নষ্ট হতে থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়?
কার ভরসায় হাসপাতালে যাবে?
কার কাছে নিজের জীবন আর সন্তানের জীবন তুলে দেবে?
একজন ডাক্তার বা হাসপাতাল ঠিকঠাক চিকিৎসা দেবে এই ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকুই বা কোথায়?
হাহ্ বাংলাদেশ…! ![]()