প্রধানমন্ত্রী তারেক র’হমানের হোটেলের সামনেই হঠাৎ লাগেজ ভর্তি…see More

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হোটেলের সামনেই হঠাৎ লাগেজ ভর্তি—নিউইয়র্কে নিরাপত্তা তৎপরতা

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে তিনি ম্যানহাটনের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক হোটেলে অবস্থান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান করা হোটেলের কাছাকাছি একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেসকে ঘিরে হঠাৎ নিরাপত্তা তৎপরতা চালানোর ঘটনায় এলাকায় কিছু সময়ের জন্য চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয় সময় ২২ সেপ্টেম্বর ম্যানহাটনের ওই এলাকায় একটি কালো স্যুটকেস পড়ে থাকতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরিস্থিতি পরিদর্শনে বোম্ব স্কোয়াডের সদস্যদেরও তৎপর হতে দেখা যায়।

ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে মূলত স্থানটির কারণে। কারণ, ওই হোটেলেই অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, যিনি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্ক সফর করছেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমনের পর থেকেই হোটেলটির আশপাশে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা রয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা ছড়িয়ে পড়লেও এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো প্রতিবেদনে বলা হয়নি যে স্যুটকেসটির ভেতরে বিস্ফোরক বা কোনো বিপজ্জনক বস্তু পাওয়া গেছে। এমনকি স্যুটকেসটি কে সেখানে রেখে গেছে, সেটিও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি।

ফলে শুধু একটি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পাওয়া যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো নাশকতা বা হামলার আশঙ্কা ছিল—এমন দাবি করার মতো নিশ্চিত তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নিউইয়র্ক পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে বলেই ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা তৎপরতা চালানো হয় বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণত কোনো সন্দেহজনক পরিত্যক্ত ব্যাগ বা স্যুটকেস দেখলে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেয়, বিশেষ করে সেটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা সংবেদনশীল স্থাপনার কাছাকাছি হলে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্কে পৌঁছানোর পর তাঁর হোটেলের সামনে বিএনপির নেতা-কর্মী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁকে স্বাগত জানান। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় একই হোটেলের সামনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পাল্টাপাল্টি মিছিল ও স্লোগানকে কেন্দ্র করে পুলিশ মোতায়েনের ঘটনাও ঘটে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও প্রবাসী মহলেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

তবে স্যুটকেসের ঘটনাকে রাজনৈতিক কর্মসূচি বা কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার মতো প্রমাণ এখন পর্যন্ত প্রকাশিত হয়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রধানমন্ত্রীর হোটেলের কাছাকাছি পরিত্যক্ত স্যুটকেস পাওয়া এবং সেটিকে ঘিরে নিউইয়র্ক পুলিশের নিরাপত্তা তৎপরতা চালানোর ঘটনা সত্য হলেও, স্যুটকেসের ভেতরে কী ছিল বা কেন সেটি সেখানে রাখা হয়েছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *