কয়েকদিন আগে হাসনাত আবদুল্লাহকে ‘ফকিরন্নির বাচ্চা’ বলে গালি দিয়েছিলেন রাশেদ খান। শুধু তাই নয়, রাশেদের ভাষায় এরা গরিব, রাজমিস্ত্রীর ছেলে; এরা এত বড়লোক হলো কীভাবে! এমন কথাও বলছেন৷
চলুন, একটু পেছনে ফিরে যাই।
২০১৮ সালের ১ জুলাই। কোটা আন্দোলনের মিছিল করার অভিযোগে মিরপুর থেকে রাশেদ খানকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ।
সেই সময় রাশেদের পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল খুবই খারাপ। তাঁর বাবা ছিলেন রাজমিস্ত্রী, আর মা মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করতেন।
এগুলো আমার বানানো কথা নয়। তখন গণমাধ্যমের সামনে রাশেদের মা নিজেই কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলেন৷
“পুলিশ আমার ছেলেডারে অনেক মারছে। ও বাঁচতে চায়। রাশেদ কোনো অন্যায় করে নাই। মানুষের বাসায় কাজ কইরা অনেক কষ্টে বাবুডারে বড় করছি। আমার ছেলের মতো ভালো ছেলে পাইবেন না। প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমার বাবুডারে মুক্তি দেন। ও তো একটা চাকরি পাওয়ার জন্য আন্দোলন করছে।”
সেদিন রাশেদের স্ত্রীও বলেছিলেন, রাশেদ কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত নয়; সে একজন সাধারণ মেধাবী ছাত্র এবং ভালো একটি চাকরির আশায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলন করছিল।
অর্থাৎ, একজন রাজমিস্ত্রীর ছেলে এবং মানুষের বাসায় কাজ করা একজন মায়ের সন্তান রাশেদ খান—সেই পরিচয় নিয়েই একসময় চাকরির জন্য আন্দোলন করেছিলেন।
আজ সেই রাশেদই বড় একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। নিজের পরিশ্রমে জীবনে এগিয়েছেন—এটা অবশ্যই তাঁর অর্জন।
কিন্তু প্রশ্নটা অন্য জায়গায়।
নিজের ব্যাকগ্রাউন্ড ইতিহাস যেটা সেই তিনি আজ অন্যের বাবা-মায়ের পেশা নিয়ে কটাক্ষ করার নৈতিক অধিকার কোথায় পেলেন?
হাসনাত আবদুল্লাহ তো বরাবরই গর্বের সঙ্গে বলে এসেছে তার বাবা একজন রাজমিস্ত্রীর ছেলে।
তাহলে হাসনাতের অপরাধটা কোথায়?
সে রাজমিস্ত্রীর ছেলে বলে?
সে গরিব পরিবার থেকে উঠে এসেছে বলে?
তার গায়ের রং পছন্দ নয় বলে?
নাকি সে রাজনৈতিকভাবে ভিন্ন অবস্থানে আছে বলে?
বাবা-মায়ের পেশা দিয়ে সন্তানের মর্যাদা নির্ধারণ করা যায় না।
কেউ রাজমিস্ত্রী, কেউ দিনমজুর, কেউ গৃহকর্মী, কেউ কৃষক এই মানুষগুলোর শ্রমেই তো অসংখ্য পরিবার দাঁড়িয়ে থাকে। তাঁরা চুরি করেন না, মানুষের ক্ষতি করেন না; নিজের ঘাম ঝরিয়ে সন্তানদের বড় করেন।
রাশেদ খানের বাবা রাজমিস্ত্রী ছিলেন, তাঁর মা মানুষের বাসায় কাজ করতেন—তাঁদের সেই সংগ্রাম যদি রাশেদকে এতদূর আনতে পারে, তাহলে একইভাবে একজন রাজমিস্ত্রীর সন্তান হাসনাতকে বড় করার পেছনেও তাঁর বাবার শ্রম ও আত্মত্যাগ আছে।
নিজের বাবা-মায়ের পেশা সম্মানের হলে, অন্যের বাবা-মায়ের পেশাও সম্মানের।
রাজনৈতিক মতের বিরোধিতা করুন, বক্তব্যের সমালোচনা করুন, কাজের সমালোচনা করুন সবই করা যায়।
কিন্তু বাবা-মায়ের পেশা নিয়ে কাউকে অপমান করা?
এটা কোনো রাজনৈতিক যুক্তি নয়। এটা জাস্ট একটা ছোটলোকি