আ. লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের অভিযোগ: সারজিসকে বহিষ্কার, হাসনাতকে শোকজ করেছিলেন নাহিদ—দাবি রাশেদ খানের
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার একটি বৈঠককে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেওয়ার অভিযোগে সারজিস আলমকে বহিষ্কার এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে কারণ দর্শানোর নোটিশ বা শোকজ করা হয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। তাঁর দাবি, সে সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম তাঁদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছিলেন।
বুধবার (১৪ অক্টোবর ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খান এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নেত্র নিউজের একটি প্রতিবেদনও শেয়ার করেন। বিষয়টি সামনে আসার পর রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। খবরটি প্রকাশ করেছে একাধিক সংবাদমাধ্যম।
১৯ জুলাইয়ের বৈঠক নিয়ে কী দাবি করেছেন রাশেদ খান?
রাশেদ খানের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন। ওই দিন আন্দোলন ঘিরে ব্যাপক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছিল বলে উল্লেখ করে তিনি বৈঠকটির সময় ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
তাঁর দাবি, এই বৈঠকে অংশ নেওয়ার বিষয়টি সামনে আসার পর সারজিস আলমকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং হাসনাত আবদুল্লাহকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। তবে এই তথ্যগুলো রাশেদ খানের বক্তব্য ও তাঁর শেয়ার করা প্রতিবেদনের সূত্রে সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য এবং নথিপত্রের ভিত্তিতে বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
৯ দফা ও ৮ দফা কর্মসূচি নিয়েও অভিযোগ
নিজের পোস্টে রাশেদ খান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়কার কর্মসূচি নিয়েও অভিযোগ তোলেন। তাঁর ভাষ্য, আব্দুল কাদেরের নেতৃত্বে উত্থাপিত ৯ দফা দাবিকে বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে ৮ দফা কর্মসূচি দেওয়া হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে সারজিস আলম ও হাসনাত আবদুল্লাহর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন।
এ ছাড়া রাশেদ খান দাবি করেন, ওই দিন হাসনাত আবদুল্লাহ ফোন করে হাসিব আল ইসলামকে একটি মেস থেকে নিয়ে বৈঠকে যোগ দিতে যান। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আরও কয়েকজনকে বৈঠকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তাঁরা সেখানে অংশ নেননি। এসব বক্তব্যও রাশেদ খানের অভিযোগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত; স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য হিসেবে নয়।
সারজিস ও হাসনাতের বক্তব্য কী?
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে রাশেদ খানের অভিযোগের বিস্তারিত তুলে ধরা হলেও সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ এবং নাহিদ ইসলামের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিক্রিয়া জানা গুরুত্বপূর্ণ।
একই সঙ্গে, সারজিসকে বহিষ্কার এবং হাসনাতকে শোকজ করার দাবি যাচাই করতে সে সময়কার সাংগঠনিক নথি, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য এবং বৈঠকসংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যের ভিত্তিতে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
কেন নতুন করে আলোচনায় বিষয়টি?
২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনে কার কী ভূমিকা ছিল, কোন কর্মসূচি কীভাবে নির্ধারিত হয়েছিল এবং আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে কারা কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন—এসব বিষয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক এখনো রয়েছে। রাশেদ খানের সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বিতর্ককে আবারও সামনে এনেছে।
তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, রাশেদ খানের দাবি এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এক নয়। অভিযোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন। সেগুলো সামনে এলে বৈঠক, কথিত সাংগঠনিক ব্যবস্থা এবং আন্দোলনের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।
সূত্র: বাংলা এডিশন, দৈনিক ইত্তেফাক ও ডেইলি বাংলাদেশে প্রকাশিত প্রতিবেদন।