বিমানবন্দরে ভিক্ষার নামে প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি, বৈদেশিক মুদ্রা দাবি করে বিরক্ত করার অভিযোগ
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা প্রবাসীরা দীর্ঘদিন বিদেশে পরিশ্রম করে দেশে ফেরেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে এবং প্রিয়জনদের কাছে ফিরে আসতে। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর যদি তাঁদের ভিক্ষার নামে বিরক্ত করা হয়, টাকা চাওয়া হয় কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে তা তাঁদের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
বিমানবন্দর একটি দেশের প্রবেশদ্বার। বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের কাছে দেশের প্রথম অভিজ্ঞতা অনেকাংশেই নির্ভর করে বিমানবন্দরের পরিবেশ, নিরাপত্তা এবং সেবার মানের ওপর। তাই বিমানবন্দরের ভেতরে ও আশপাশে যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
ভিক্ষার নামে হয়রানি ও অর্থ দাবি নিয়ে উদ্বেগ
বিমানবন্দরে যাত্রীরা লাগেজ সংগ্রহ, ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করা এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করার মতো বিভিন্ন কাজে ব্যস্ত থাকেন। এ সময় কেউ ভিক্ষার নামে বারবার টাকা চাইলে, পথ আটকে দাঁড়ালে কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা দাবি করে বিরক্ত করলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
বিশেষ করে দীর্ঘ বিমানযাত্রার পর দেশে ফেরা প্রবাসী, বয়স্ক ব্যক্তি, নারী ও পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করা যাত্রীরা এ ধরনের পরিস্থিতিতে বেশি অস্বস্তিতে পড়তে পারেন। বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে তাই যাত্রীদের চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখা এবং অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখা জরুরি।
প্রবাসীদের সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাঁদের অবদানকে সম্মান জানানো এবং দেশে ফেরার সময় নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
এ জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিমানবন্দরের প্রবেশপথ, আগমন এলাকা ও যাত্রীদের চলাচলের স্থানে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি যাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা এবং অভিযোগের দ্রুত প্রতিকারের ব্যবস্থা থাকাও গুরুত্বপূর্ণ।
কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে?
১. বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রীদের হয়রানি ও জোরপূর্বক অর্থ দাবি প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানো।
২. ভিক্ষার নামে পথ আটকে রাখা, চাপ সৃষ্টি করা বা বৈদেশিক মুদ্রা দাবি করে বিরক্ত করার অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্ত করা।
৩. ভুক্তভোগী যাত্রীদের জন্য সহজে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রাখা।
৪. বিমানবন্দর এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত অভিযান ও তদারকি নিশ্চিত করা।
৫. প্রকৃত অসহায় মানুষের মানবিক সহায়তার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি যাত্রীদের নিরাপত্তা ও চলাচলের অধিকার রক্ষা করা।
মানবিকতা বজায় রেখেই হয়রানি বন্ধ করতে হবে
অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো মানবিক দায়িত্ব। তবে সেই মানবিকতার সুযোগ নিয়ে কোনো যাত্রীকে বিরক্ত করা, তাঁর পথ আটকে রাখা কিংবা বৈদেশিক মুদ্রা দিতে চাপ সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে হয়রানি না করে আইন ও প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সম্মান, নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিক্ষার নামে হয়রানি কিংবা অর্থ দাবি করে বিরক্ত করার ঘটনা ঘটলে তা প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
প্রবাসীরা যেন দেশের মাটিতে পা রেখেই নিরাপত্তা, সম্মান ও আন্তরিকতার অনুভূতি পান—এটাই হওয়া উচিত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের লক্ষ্য।
দ্রষ্টব্য: এটি আপনার দেওয়া বিষয়ের ভিত্তিতে তৈরি একটি সচেতনতামূলক সংবাদধর্মী লেখা। নির্দিষ্ট কোনো বিমানবন্দর বা ঘটনার বিষয়ে আলাদা তথ্য দেওয়া হয়নি।