এইযে হেংলা পাতলা মেয়েটাকে দেখছেন, উনার নাম ‘রেবেকা শাফি’ তার সম্পর্কে জানলে আপনার হুশ..See more

এই যে হেংলা-পাতলা মেয়েটিকে দেখছেন, তাঁর নাম রেবেকা শাফি! পরিচয় জানলে অবাক হবেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাঝেমধ্যেই এমন কিছু মানুষের পুরোনো ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হয়, যাঁদের অসাধারণ মেধা, আত্মবিশ্বাস কিংবা জীবনের সাফল্য নতুন করে মানুষের নজর কাড়ে। তেমনই একজন হলেন বাংলাদেশের মেয়ে রেবেকা শাফি। ছোটবেলার একটি বিতর্ক প্রতিযোগিতায় তাঁর দেওয়া বক্তব্যের ভিডিও বহু বছর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আর সেই ভিডিও দেখেই অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে—কে এই তরুণী? কোথায় গেলেন তিনি? বর্তমানে কী করছেন?

রেবেকা শাফির গল্পটি শুধু একজন মেধাবী শিক্ষার্থীর গল্প নয়; এটি অধ্যবসায়, জ্ঞানচর্চা এবং নিজের আগ্রহকে অনুসরণ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণামূলক উদাহরণ।

ছোটবেলার বিতর্কের ভিডিওতেই পরিচিতি

১৯৯৩-৯৪ সালের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি স্কুলভিত্তিক বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন রেবেকা শাফি। সেই প্রতিযোগিতার ফাইনালে তাঁর বক্তব্য দর্শকদের নজর কেড়েছিল। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া, যিনি বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়েছিলেন বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

বহু বছর পর সেই পুরোনো ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে রেবেকার যুক্তি উপস্থাপন, কথা বলার ধরন এবং আত্মবিশ্বাস দেখে অনেকেই মুগ্ধ হন। বিশেষ করে তাঁর বক্তব্যের একটি ভাবনা—জীবনে কিছু ছেড়ে দিয়েও নিজের মূল্যবোধ ধরে রাখা—মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দেয়।

কে এই রেবেকা শাফি?

বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, রেবেকা শাফির জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকার ধানমন্ডিতে। তাঁর বাবা আহমেদ শাফি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ছিলেন এবং মা সুলতানা শাফিও অধ্যাপনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশে বেড়ে ওঠেন তিনি। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান। সেখানে পদার্থবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন এবং পরবর্তীতে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাস্ট্রোফিজিকস বিষয়ে পিএইচডি সম্পন্ন করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞান থেকে জেনেটিকস গবেষণায়

রেবেকা শাফির শিক্ষাজীবনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো গবেষণার বিষয় পরিবর্তন। শুরুতে তাঁর আগ্রহ ছিল পদার্থবিজ্ঞান ও মহাকাশবিজ্ঞানে। ব্ল্যাক হোলসহ মহাবিশ্বের জটিল বিষয় নিয়ে গবেষণার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন তিনি।

পরবর্তীতে তাঁর আগ্রহ তৈরি হয় জীববিজ্ঞান, জেনেটিকস এবং নিউরোসায়েন্সের প্রতি। মানুষের মস্তিষ্ক ও জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণার কাজে যুক্ত হন তিনি। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে তাঁকে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুল ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করা গবেষক হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

একটি বিষয় বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য—একটি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জনের পরও নতুন বিষয়ে শেখার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেননি তিনি। বরং নিজের জ্ঞান ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি গবেষণাক্ষেত্রে এগিয়ে গেছেন।

কেন তাঁর গল্প তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণা?

রেবেকা শাফির গল্প থেকে সবচেয়ে বড় যে শিক্ষা পাওয়া যায়, তা হলো মানুষের বাহ্যিক চেহারা কিংবা শারীরিক গঠন দিয়ে তাঁর মেধা ও যোগ্যতা বিচার করা যায় না। একজন মানুষ নিজের অধ্যবসায়, পরিশ্রম, কৌতূহল এবং শেখার আগ্রহ দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারেন।

ছোটবেলায় একটি বিতর্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে যে মেয়েটি নিজের যুক্তি দিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন, পরবর্তী জীবনে তিনি আন্তর্জাতিক গবেষণাজগতেও নিজের পরিচিতি তৈরি করেছেন। তাঁর এই পথচলা বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ইতিবাচক উদাহরণ।

শেষ কথা

রেবেকা শাফির পরিচয় জানলে সত্যিই অনেকের বিস্ময় জাগতে পারে। কারণ ছোটবেলার সেই বিতর্কের মঞ্চ থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার জগতে তাঁর পথচলা সহজ ছিল না। এর পেছনে ছিল দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি গভীর আগ্রহ।

তাঁর গল্প আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মানুষকে চেহারা দিয়ে নয়, তাঁর চিন্তা, কাজ, মেধা ও অর্জন দিয়ে মূল্যায়ন করা উচিত। বাংলাদেশের একজন নারী হিসেবে আন্তর্জাতিক গবেষণার জগতে তাঁর পথচলা নিঃসন্দেহে অনেক তরুণ-তরুণীর জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *