আজ যে জেলায় টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না, জেনে নিন যেসব এলাকায় বন্ধ থাকবে সরবরাহ
দেশের কয়েকটি জেলায় জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুৎ লাইন মেরামত ও সঞ্চালন লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার কাজের কারণে আজ শনিবার (৩১ অক্টোবর) দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় টানা ১১ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকবে না। এতে ওই এলাকার বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
নাটোরে টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ
সবচেয়ে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার কয়েকটি এলাকায়। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ জানিয়েছে, বড়াইগ্রাম-১ (বনপাড়া) উপকেন্দ্রের ৬, ৭ ও ৮ নম্বর ফিডারে জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশের গাছের ডালপালা কাটার কাজ করা হবে।
এ কারণে আজ সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত টানা ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে।
এই সময় কালিকাপুর, ফজলিতলা, আহম্মেদপুর বাজার, পার আহম্মেদপুর, কায়েম কোলা, খৌদ্দকাচুটিয়া, কুমরুল, বৃকাচুটিয়া, ভবানীপুর, রামাগাড়ি, কামারদহ, আটঘরিয়া, স্লুইস গেট, হাট গোবিন্দপুর, শেখ পাড়া এবং আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ থাকবে না।
তবে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ নির্ধারিত সময়ের আগে শেষ হলে বিদ্যুৎ সরবরাহ আগেই স্বাভাবিক হতে পারে। আবার কাজের পরিস্থিতি অনুযায়ী সময়সূচিতে কিছুটা পরিবর্তনও হতে পারে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জেও বিদ্যুৎ থাকবে না
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ এলাকায়ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। নেসকোর শিবগঞ্জ বিদ্যুৎ সরবরাহ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে থাকা গাছের ডালপালা কাটার কাজের জন্য সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
অর্থাৎ, এই এলাকায় প্রায় ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম প্রয়োজন।
সিলেটের একাধিক এলাকাতেও বিদ্যুৎ বিভ্রাট
সিলেট নগরীর কয়েকটি এলাকাতেও আজ নির্ধারিত সময়ের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ জানিয়েছে, লাকাতুরা উপকেন্দ্রের আওতাধীন বিভিন্ন ফিডারে রক্ষণাবেক্ষণ ও গাছের ডালপালা কাটার কাজ চলবে।
এ কারণে সকাল ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত লাকাতুরা বাজার, মুসলিম পাড়া, মালনীছড়া, বাদামবাগিচার কিছু অংশ, রূপসা আবাসিক এলাকা, ফরিদাবাদ, ধোপাগুল, সাহেবের বাজার, সালুটিকর ঘাটসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
এ ছাড়া আম্বরখানা উপকেন্দ্রের আওতাধীন কয়েকটি এলাকায় সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়েছে। এসব এলাকার মধ্যে রয়েছে আম্বরখানা মসজিদ, দত্তপাড়া, আম্বরখানা সরকারি কলোনি, মজুমদারী, কমলা বাগান, প্রভাতী, পূর্ব পীরমহল্লা, হাউজিং এস্টেট ও ফরিদাবাদ আবাসিক এলাকার সংশ্লিষ্ট অংশ।
আরও যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকবে
বিদ্যুৎ লাইনের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে ঝিনাইদহের মহেশপুর এবং নরসিংদীর শিবপুরেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ঝিনাইদহের মহেশপুরে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে। অন্যদিকে, নরসিংদীর শিবপুর উপজেলায় বিদ্যুতের লাইন স্থানান্তরের কাজের জন্য সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শিবপুরের যেসব এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হতে পারে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে খড়িয়া, বাজনাবো, ইটাখোলা, সৈয়দনগর, বন্যারবাজার, গোবিন্দি, তেলিয়া, কুমড়াদি, পুরানদিয়া, বাড়ৈআলগী, জামতলা, পালপাড়া, বড়কান্দা, ব্রাহ্মন্দি, চন্দনদিয়া, হিজলিয়া, ত্রিশা, নোয়াদিয়া, লামপুর ও আশপাশের কয়েকটি এলাকা।
গোপালগঞ্জের কিছু এলাকাতেও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণকাজের কারণে নির্দিষ্ট সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
কেন বন্ধ রাখা হচ্ছে বিদ্যুৎ?
সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ লাইন সচল রাখা, সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ গাছের ডালপালা অপসারণ এবং প্রয়োজনীয় মেরামতকাজ সম্পন্ন করতেই এই সাময়িক বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনের ওপর বা খুব কাছাকাছি গাছের ডালপালা থাকলে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা অন্য কোনো কারণে লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অংশ হিসেবে এসব কাজ করা হয়।
গ্রাহকদের জন্য পরামর্শ
যেসব এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ থাকবে না, সেসব এলাকার বাসিন্দাদের আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় যন্ত্র চার্জ দিয়ে রাখা, পানির পাম্পের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোর আগে থেকে পানি সংরক্ষণ করা এবং বিদ্যুৎনির্ভর জরুরি কাজের সময়সূচি সামঞ্জস্য করে নেওয়া কাজে আসতে পারে।
তবে বিদ্যুৎ বন্ধের নির্ধারিত সময় এলাকাভেদে আলাদা। তাই নিজের এলাকার সঠিক সময়সূচি জানতে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বা বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, ১১ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার ঘোষণাটি নাটোরের বড়াইগ্রাম উপজেলার নির্দিষ্ট কিছু এলাকার জন্য। দেশের সব এলাকায় একই সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ শেষ হলে নির্ধারিত সময়ের আগেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা হতে পারে।