৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পাস! শেফালী বেগমের অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার মেনেছে বয়স ও প্রতিকূলতা। 
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার কালিগঞ্জ গ্রামের শেফালী বেগম। মাত্র দেড় বছর বয়সে ফুফাতো ভাইয়ের সাথে বিয়ে হয় তাঁর। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই ১৯৮৫ সালে স্বামীর বাড়িতে চলে যেতে হয়। এরপর সংসার, সন্তান আর পারিবারিক দায়িত্বের চাপে থেমে যায় পড়াশোনা।
কিন্তু মনের ভেতরে শিক্ষার স্বপ্নটা কখনো মরতে দেননি তিনি।
দীর্ঘ বিরতির পর ২০২০ সালে স্বামী ও সন্তানের অনুপ্রেরণায় আবারও বই হাতে তুলে নেন শেফালী। ২০২৩ সালে এসএসসি পাস করেন জিপিএ ৪.২৯ পেয়ে। আর এবার ৫২ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.২১ অর্জন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।
সবচেয়ে অনুপ্রেরণার বিষয় হলো, সংসারের সব কাজ শেষ করে রাত ৯টার পর পড়তে বসতেন তিনি। কখনো রাত ১টা-২টা পর্যন্ত পড়াশোনা করতেন। কোনো প্রাইভেট শিক্ষকও ছিল না। ইংরেজি শিখেছেন নিজের সন্তানদের কাছ থেকে।
এখন তাঁর স্বপ্ন আরও বড়। এখানেই থেমে থাকতে চান না শেফালী বেগম। এবার অনার্সে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে চান।
শেফালী বেগম যেন আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, শেখার কোনো বয়স নেই, স্বপ্ন পূরণেরও কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। ইচ্ছাশক্তি আর চেষ্টা থাকলে জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন করে শুরু করা যায়।
শেফালী বেগমের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা ও ভালোবাসা। 