কুমিল্লা প্রবা’সীর স্ত্রী DNA টে’স্টে মিললো ৪৮ জনের শু…See more

সোশ্যাল মিডিয়ায় “কুমিল্লা প্রবাসীর স্ত্রী, DNA টেস্টে মিললো ৪৮ জনের শু…See more” বা “৪৮ জনের শুক্রাণু…” ক্যাপশনে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া গুজব এবং এক প্রকার নোংরা ক্লিকবেইট (Clickbait)

পাঠকদের কৌতূহল ও স্পর্শকাতর যৌন/পারিবারিক বিষয়কে কেন্দ্র করে মিথ্যে গল্প বানিয়ে ভিউ, লাইক এবং পেজের রিচ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্যামাররা এই ধরনের কনটেন্ট তৈরি করে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য ও বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা

১. ডিএনএ (DNA) টেস্টের বৈজ্ঞানিক নিয়ম

চিকিৎসাবিজ্ঞান ও জিনতত্ত্ব (Genetics) অনুযায়ী, কোনো সন্তানের পিতৃপরিচয় নিশ্চিত করতে যখন ডিএনএ (Paternity DNA) টেস্ট করা হয়, তখন কেবল সন্তান ও সম্ভাব্য পিতার ডিএনএ প্রোফাইল মেলানো হয়। ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে কখনোই “৪৮ জনের অস্তিত্ব একসাথে পাওয়া” সম্ভব নয়। বৈজ্ঞানিকভাবে একজন সন্তানের ডিএনএ গঠন কেবল একজোড়া (মা ও একজন নির্দিষ্ট বাবা) থেকেই আসা সম্ভব।

২. গুজব ছড়ানোর কৌশল

এ ধরনের ফেক নিউজে একটি কাল্পনিক স্থান (যেমন: কুমিল্লা) এবং “প্রবাসী”-দের নাম ব্যবহার করা হয়, কারণ প্রবাসীদের পারিবারিক জীবন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মানুষের আগ্রহ ও সহানুভূতি বেশি থাকে। মূল ক্যাপশনে স্পর্শকাতর শব্দ অসম্পূর্ণ রেখে “See More” বা “বিস্তারিত কমেন্টে” দিয়ে রাখা হয়, যাতে মানুষ লিংকে ক্লিক করে কোনো থার্ড-পার্টি ওয়েবসাইটে যায় কিংবা ফেক ভিডিওতে ক্লিক করে।

৩. উদ্দেশ্য

  • ফেক ট্রাফিক: ভুয়া ওয়েবসাইটে পাঠক বানিয়ে বিজ্ঞাপন থেকে টাকা আয় করা।

  • পেজের রিচ বৃদ্ধি: কমেন্ট বক্সে বিতর্ক বা গালাগালি তৈরি করে ফেসবুকের অ্যালগরিদমকে কাজে লাগিয়ে পেজের এনগেজমেন্ট বাড়ানো।

সচেতনতা বার্তা: এ ধরনের বিকৃত ও বানোয়াট সংবাদের লিংকে ক্লিক করা বা এগুলো শেয়ার করা থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। এ জাতীয় ভুয়া পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ার পরিবেশ নষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *