৩৩০০ টাকার বিল দেখে মাথা গরম! মিটার রিডার আসতেই তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখার দাবি
বিদ্যুতের বিল হাতে পাওয়ার পর অনেক গ্রাহকেরই মাথায় হাত পড়ে। প্রত্যাশার তুলনায় বিল বেশি এলে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয় ক্ষোভ ও অসন্তোষ। এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পোস্টে দাবি করা হচ্ছে, ৩ হাজার ৩০০ টাকার বিদ্যুৎ বিল দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে এক ব্যক্তি মিটার রিডারকে সামনে পেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এবং একপর্যায়ে তাকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
ঘটনাটির একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কৌতূহল তৈরি করলেও, ভাইরাল পোস্টটির সঙ্গে নির্ভরযোগ্য কোনো সংবাদ প্রতিবেদন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিশ্চিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে, ওই ব্যক্তির পরিচয় কী, মিটার রিডারের সঙ্গে আসলে কী ঘটেছিল কিংবা তাকে সত্যিই খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়েছিল কি না—এসব বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য বলা যাচ্ছে না।
বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গ্রাহকের অসন্তোষ অবশ্য নতুন কোনো বিষয় নয়। অনেক সময় আগের মাসের তুলনায় হঠাৎ বিল বেড়ে গেলে গ্রাহকরা বিলের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বেশি বিলের পেছনে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার, মিটারের রিডিংয়ের পার্থক্য, আগের বকেয়া, বিভিন্ন চার্জ কিংবা কোনো ধরনের হিসাবগত সমস্যাও থাকতে পারে।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে মিটার রিডারকে দায়ী করার আগে বিলের বিস্তারিত হিসাব এবং মিটারে থাকা বর্তমান রিডিং যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায় মিটার রিডারের কাজ মূলত মিটারের রিডিং সংগ্রহ করা এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে বিল তৈরির প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা। ফলে কোনো বিল নিয়ে সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ জানানোই নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতি।
ভাইরাল পোস্টে ৩ হাজার ৩০০ টাকা বিলের কথা বলা হলেও, ওই বিলটি কত ইউনিট ব্যবহারের জন্য তৈরি হয়েছিল, আগের মাসে কত টাকা বিল এসেছিল কিংবা বিলের মধ্যে কোনো বকেয়া বা অতিরিক্ত চার্জ ছিল কি না—এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই শুধু বিলের অঙ্ক দেখে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কোনো সরকারি বা বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীর সঙ্গে অসদাচরণ বা শারীরিকভাবে আটকে রাখার অভিযোগ সত্য হলে সেটি গুরুতর বিষয়। বিল নিয়ে আপত্তি থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানানো এবং প্রয়োজন হলে মিটার পুনরায় পরীক্ষা করানোর সুযোগ রয়েছে। নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘৩৩০০ টাকার বিল দেখে মাথা গরম’ ধরনের শিরোনাম মানুষের স্বাভাবিক কৌতূহল তৈরি করছে। কিন্তু ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, স্থান, সময় এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য পাওয়া না গেলে এটিকে নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
ঘটনাটি সত্যিই কোথায় এবং কীভাবে ঘটেছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন কিংবা প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য পাওয়া গেলে পুরো বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত ভাইরাল দাবিটিকে যাচাই না করা তথ্য হিসেবেই দেখা নিরাপদ।