সালমান মুক্তাদির সরকারের উদ্দেশ্যে মিডিয়ায় জানালেন, ‘দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন’
নিজের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর সরকারের উদ্দেশ্যে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদির। সম্প্রতি রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় তার স্টুডিওতে হামলার ঘটনা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। ঘটনার পর তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের উদ্দেশ্যে একাধিক ভিডিও বার্তায় নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
সালমানের অভিযোগ অনুযায়ী, তার স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের পাশাপাশি বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কিছু লোকজনের জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছেন। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যও আলাদাভাবে বিবেচনার বিষয়।
ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, স্টুডিওতে হামলার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মন্ত্রী ঘটনাটিকে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের সঙ্গে যুক্ত বলে উল্লেখ করেন।
এরপরই নিজের বক্তব্যে সালমান মুক্তাদির বলেন, বিষয়টি শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা হিসেবে না দেখে দেশের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার বিষয় হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। তিনি জানান, নিজের ক্ষতি তিনি নিজেই সামলে নিতে পারবেন এবং সরকারের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা বা স্টুডিও পুনর্নির্মাণের দাবি তার নেই।
সালমানের বক্তব্যের মূল বিষয় ছিল নাগরিক নিরাপত্তা। তিনি সরকারের কাছে প্রশ্ন তোলেন—একজন নাগরিকের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা কর্মস্থলে হামলা হলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি নিজের জায়গা থেকে আবারও শুরু করতে প্রস্তুত, কিন্তু দেশের প্রত্যেক নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।
এদিকে ২৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া আরেকটি দীর্ঘ ভিডিও বার্তায় সালমান মুক্তাদির ঘটনাটিকে আরও বিস্তৃতভাবে দেখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, তাকে ঘিরে যে আলোচনা তৈরি হয়েছে, সেটিকে শুধু ব্যক্তিগত ঘটনা হিসেবে না দেখে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার প্রশ্ন হিসেবেও দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির সঙ্গে গোলটেবিল বৈঠকে বসার প্রস্তাব দেন, যাতে তাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিভিন্ন বক্তব্য ও ‘ন্যারেটিভ’ নিয়ে সরাসরি আলোচনা করা যায়।
ঘটনাটি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন বক্তব্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, সালমান মুক্তাদিরের মতো ব্যাপক পরিচিতি ও রিচ থাকা ব্যক্তিদের ভবিষ্যতে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা রয়েছে।
অন্যদিকে সালমান মুক্তাদির তার বক্তব্যে বারবার নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নিজের ক্ষতি নিয়ে তিনি ভেঙে পড়েননি এবং প্রয়োজনে আবার শূন্য থেকে শুরু করতেও প্রস্তুত। কিন্তু তার মতে, সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদে ব্যবসা করতে পারে, কাজ করতে পারে এবং নিজের সম্পদ নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারে—সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা এবং নাগরিকদের জানমালের সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হামলার পেছনে কারা ছিল, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ কী—এসব বিষয়ে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার ফলাফলই চূড়ান্তভাবে গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সব মিলিয়ে, নিজের স্টুডিওতে হামলার ঘটনার পর সালমান মুক্তাদির সরকারের কাছে ব্যক্তিগত ক্ষতিপূরণের চেয়ে নাগরিক নিরাপত্তার বিষয়টিকে সামনে এনেছেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার