স্ত্রী ছাড়া কার সাথে স-হ-বা-স করা যাবে : ইসলামের স্প’ষ্ট বি’ধান!..see more

স্ত্রী ছাড়া কার সঙ্গে সহবাস করা যাবে? ইসলামে এ বিষয়ে কী বলা হয়েছে—জেনে নিন স্পষ্ট বিধান

ইসলামে যৌনজীবন, বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কের বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ককে ইসলাম বৈধ ও সম্মানজনক সম্পর্ক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একই সঙ্গে বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্ক, ব্যভিচার এবং অন্যের অধিকার লঙ্ঘন থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই প্রশ্ন দেখা যায়—স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে সহবাস করা কি ইসলামে বৈধ? এ প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে কোরআনের নির্দেশনা এবং ইসলামের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট সঠিকভাবে বুঝতে হবে।

১. বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্ক সম্পর্কে কোরআনের নির্দেশ

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইসরা, আয়াত ৩২-এ বলা হয়েছে, ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। এটি অশ্লীল কাজ এবং অত্যন্ত মন্দ পথ। <Cite refs={[“turn541006search3”]}/>

অন্যদিকে সূরা আল-মুমিনুনের ৫–৭ নম্বর আয়াতে মুমিনদের নিজেদের সতীত্ব রক্ষা করার কথা বলা হয়েছে এবং বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সীমা অতিক্রম না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। <Cite refs={[“turn541006search0″,”turn541006search4”]}/>

অর্থাৎ, ইসলামের সাধারণ বিধান অনুযায়ী, বৈধ বিবাহের বাইরে কোনো নারী বা পুরুষের সঙ্গে যৌনসম্পর্ক করা বৈধ নয়। প্রেমের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব কিংবা পারস্পরিক সম্মতি থাকলেই বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্ক ইসলামে বৈধ হয়ে যায় না।

২. স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে কি সহবাস করা যায়?

বর্তমান সময়ে সাধারণ মুসলিম ব্যক্তির জন্য বৈধ স্ত্রী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপনের অনুমতি নেই। বিবাহিত বা অবিবাহিত—উভয়ের ক্ষেত্রেই বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্ক নিষিদ্ধ।

কোরআনের সূরা আন-নিসার ২৩–২৪ নম্বর আয়াতে কাদের বিয়ে করা নিষিদ্ধ এবং বিয়ের ক্ষেত্রে কী সীমা মানতে হবে, তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে। <Cite refs={[“turn541006search1”]}/>

এখানে একটি ঐতিহাসিক বিষয়ও পরিষ্কার করা জরুরি। কোরআনের কিছু আয়াতে দাসপ্রথার তৎকালীন ঐতিহাসিক বাস্তবতার উল্লেখ রয়েছে। সেই প্রসঙ্গকে বর্তমান সময়ে কাউকে অধিকারহীন করা বা বিয়ের বাইরে যৌনসম্পর্কের অনুমতি হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়।

৩. স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কেও রয়েছে কিছু বিধিনিষেধ

ইসলামে বিয়ে বৈধ হলেই সব ধরনের যৌন আচরণ অনুমোদিত হয়ে যায় না। ইসলামি ফিকহে কিছু নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ—

  • মাসিক চলাকালে: স্ত্রীর মাসিকের সময় যোনিপথে সহবাস নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে সূরা আল-বাকারার ২২২ নম্বর আয়াতে নির্দেশনা রয়েছে।
  • পায়ুপথে সহবাস: প্রচলিত ইসলামি ফিকহ অনুযায়ী এটি নিষিদ্ধ।
  • পারস্পরিক সম্মান: স্বামী-স্ত্রীর একে অপরের প্রতি কোমল আচরণ, সম্মান এবং শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত।

এসব বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ইসলামি ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ও আলেমদের ব্যাখ্যায় পাওয়া যায়। <Cite refs={[“turn541006search2″,”turn541006search6″,”turn541006search7”]}/>

৪. বিয়ে ছাড়া অন্য সম্পর্ককে বৈধ করার উপায় আছে কি?

শুধু ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতি, গোপন সম্পর্ক কিংবা সামাজিকভাবে একসঙ্গে বসবাসের মাধ্যমে কোনো সম্পর্ক ইসলামি বিবাহে পরিণত হয় না। বৈধ বিয়ের জন্য প্রযোজ্য শরয়ি শর্ত পূরণ করতে হয়।

একইভাবে কারও সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও তাকে বিয়ে না করে যৌনসম্পর্ক স্থাপনকে ইসলাম বৈধ বলে না। এ ধরনের বিষয়ে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্তের জন্য যোগ্য আলেমের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।

৫. ইসলামে দাম্পত্য জীবনের মূল শিক্ষা কী?

ইসলাম শুধু নিষেধাজ্ঞার কথা বলে না; বরং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, দয়া, বিশ্বস্ততা ও দায়িত্ববোধের ওপরও গুরুত্ব দেয়। সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা দেখা দিলে প্রতারণা বা গোপন সম্পর্কের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা উচিত।

দাম্পত্য জীবনে পারস্পরিক অধিকার রক্ষা করা, একে অপরের অনুভূতির মূল্য দেওয়া এবং পরিবারে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

উপসংহার

ইসলামের সাধারণ বিধান অনুযায়ী, বৈধ স্ত্রী বা স্বামী ছাড়া অন্য কারও সঙ্গে যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা বৈধ নয়। কোরআনে ব্যভিচার থেকে বিরত থাকার নির্দেশ রয়েছে এবং বৈধ দাম্পত্য সম্পর্কের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ঐতিহাসিক দাসপ্রথা-সংক্রান্ত আয়াতকে বর্তমান সময়ে অনৈতিক সম্পর্কের অনুমতি হিসেবে ব্যাখ্যা করা উচিত নয়।

ধর্মীয় বিধান সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অসম্পূর্ণ শিরোনামের পরিবর্তে কোরআনের প্রাসঙ্গিক আয়াত, নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা এবং যোগ্য আলেমের মতামত অনুসরণ করাই উত্তম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *