ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক হয়েছে কি না, যা জানা গেল
ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং সদস্য পদে এসএসসি সনদের মূল কপি জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক হয়েছে—এমন একটি খবর সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও দাবি করা হচ্ছে, এসব সনদ না থাকলে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়ে যাবে।
তবে বর্তমানে কার্যকর আইন ও নির্বাচন কমিশনের অবস্থান অনুযায়ী, এমন কোনো বাধ্যতামূলক শিক্ষাগত যোগ্যতা এখনো চালু হয়নি। বিভিন্ন ফ্যাক্টচেক ও সংবাদ প্রতিবেদনে এই দাবিকে ভিত্তিহীন বা ভুয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
তাহলে আসল তথ্য কী?
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সাংবাদিকদের বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের জন্য কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা বাধ্যতামূলক নয়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—এসব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইনগুলোতে এমন শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত নেই।
অর্থাৎ, বর্তমানে ইউপি চেয়ারম্যান হতে এইচএসসি পাস এবং ইউপি সদস্য হতে এসএসসি পাস—এমন কোনো সাধারণ আইনি শর্ত কার্যকর নেই।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে খবরটি ছড়িয়েছে
সম্প্রতি ফেসবুকে একটি কথিত সংবাদপত্রের কাটিং ও বিভিন্ন ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে দাবি করা হয়, চেয়ারম্যান পদে এইচএসসি এবং মেম্বার পদে এসএসসি সনদের মূল কপি ছাড়া মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে।
কিন্তু অনুসন্ধানে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট বা সংশ্লিষ্ট আইন-বিধিতে এমন কোনো নতুন সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। বরং প্রচারিত কিছু সংবাদকাটিংয়ের সত্যতা নিয়েও ফ্যাক্টচেক করা হয়েছে এবং সেগুলোকে ভুয়া বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান হতে বর্তমানে কী শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে?
বর্তমানে কার্যকর স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ২৬ ধারায় ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য কোনো ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা নেই। ফলে শুধু শিক্ষাগত সনদ না থাকার কারণে একজন যোগ্য নাগরিককে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে বাধা দেওয়ার বিধান বর্তমানে নেই।
একইভাবে ইউপি সদস্য পদেও এসএসসি সনদের মূল কপি জমা না দিলে মনোনয়নপত্র বাতিল হবে—এমন বিধানের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তবে শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে আদালতে বিষয়টি উঠেছে
এখানেই রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। ইউপি চেয়ারম্যান পদে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের দাবি নিয়ে হাইকোর্টে রিট হয়েছে।
২০২৬ সালের ২২ জুলাই হাইকোর্ট জানতে চেয়েছেন, ইউপি চেয়ারম্যান পদে প্রার্থীদের জন্য অন্তত স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হবে না কেন। একই সঙ্গে বিদ্যমান আইনের সংশ্লিষ্ট বিধান কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল জারি করা হয়েছে।
তবে হাইকোর্টের রুল জারি হওয়া আর নতুন শিক্ষাগত যোগ্যতা আইন হিসেবে কার্যকর হয়ে যাওয়া এক বিষয় নয়। এ কারণে রুলের খবরকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘এসএসসি-এইচএসসি বাধ্যতামূলক’ দাবির সঙ্গে বিষয়টি গুলিয়ে ফেলা হচ্ছে।