মনে রেখো, চট্টগ্রাম! বন্যার সময় একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর গল্প ভুলে গেলে চলবে না
বাংলাদেশ একটি নদীমাতৃক দেশ। প্রতি বছর কোনো না কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে। কখনো বন্যা, কখনো ঘূর্ণিঝড়, কখনো পাহাড়ি ঢল—এসব দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মানবিক দায়িত্ব। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্ট ভাইরাল হয়েছে, যেখানে বলা হচ্ছে—”মনে রেখো চট্টগ্রাম? নোয়াখালী, ফেনী, কুমিল্লা, সিলেট ও সুনামগঞ্জে যখন বন্যা হয়েছিল, তখন চট্টগ্রামের মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল।”
গত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন জেলায় ভয়াবহ বন্যায় লাখো মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই সময় দেশের নানা প্রান্ত থেকে ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন, শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়ায়। চট্টগ্রাম থেকেও অনেক মানুষ ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, ওষুধ এবং আর্থিক সহায়তা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছেছেন। একইভাবে দেশের অন্যান্য জেলার মানুষও বিভিন্ন সময়ে চট্টগ্রামসহ দুর্যোগকবলিত অঞ্চলের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
দুর্যোগ কখনো একটি জেলার নয়, এটি পুরো দেশের চ্যালেঞ্জ। তাই এক জেলার মানুষ অন্য জেলার মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এই মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতাই সংকট মোকাবিলার সবচেয়ে বড় শক্তি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক সময় আবেগঘন বার্তা ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোনো নির্দিষ্ট জেলা বা জনগোষ্ঠী সম্পর্কে দাবি করার আগে তথ্য যাচাই করা জরুরি। কারণ দুর্যোগের সময় দেশের প্রায় সব অঞ্চল থেকেই মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। তাই কৃতিত্ব একটি নির্দিষ্ট এলাকার নয়, বরং পুরো দেশের সাধারণ মানুষের।
মানবিকতার কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। আজ যদি একটি জেলা বিপদে পড়ে, আগামীকাল অন্য জেলা পড়তে পারে। তাই বিভেদ নয়, বরং একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা, সহযোগিতা ও ঐক্যের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের সবার দায়িত্ব।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় রাজনৈতিক বা আঞ্চলিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষ মানুষের পাশে দাঁড়ায়—এটাই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। এই মানবিক মূল্যবোধ ধরে রাখতে পারলেই যেকোনো সংকট আরও সহজে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে।