১০টি সন্তানকে খেয়ে না-খেয়ে বড় করেছেন, তবু জোটে না দুবেলা ভাত…see more

১০টি সন্তানকে খেয়ে না-খেয়ে বড় করেছেন, পড়ালেখা করিয়েছেন, বিয়ে দিয়ে যার যার সংসারও গুছিয়ে দিয়েছেন।

কিন্তু জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়নের বানিয়াগাঁতী গ্রামের ৯০ বছর বয়সী আছাব আলী ও তাঁর ৮০ বছর বয়সী স্ত্রী সালেকা বেগমের ভাগ্যে জুটেছে শুধুই অবহেলা আর চরম অসহায়ত্ব!

৫ ছেলে ও ৫ মেয়ের এই বিশাল সংসার থাকা সত্ত্বেও আজ তাঁদের দুবেলা খাবারের জন্য প্রতিবেশীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে!

স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বয়সের ভারে আছাব আলী এখন সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী এবং নিজের পায়ে হাঁটার ক্ষমতা হারিয়েছেন! তাঁর বৃদ্ধ স্ত্রী সালেকা বেগম নিজেও নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন, তবুও জরাজীর্ণ ভাঙা ঘরে বাঁশের মাচায় চট বিছিয়ে দিন-রাত অসুস্থ স্বামীর সেবা করে যাচ্ছেন!

বেঁচে থাকার তাগিদে কখনো কখনো অসুস্থ শরীর নিয়েই প্রতিবেশীদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে খাবারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে তাঁদের!

স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহাগ মণ্ডল জানিয়েছেন, বিষয়টি নজরে আসার পর এই দম্পতির জন্য সরকারি বয়স্ক ভাতার কার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং ইউনিয়ন পরিষদ থেকে নিয়মিত সরকারি অনুদানও দেওয়া হচ্ছে!

পাশাপাশি স্থানীয় কিছু মানবিক তরুণ ও প্রতিবেশীরা তাঁদের জন্য হুইলচেয়ার, প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী এবং চিকিৎসার খরচ জোগাতে এগিয়ে এসেছেন!

সমাজের এই নির্মম চিত্র আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মা-বাবার শেষ বয়সের চাওয়া শুধু টাকা-পয়সা নয়; একটু ভালোবাসা আর সন্তানের স্পর্শ।

আসুন, শুধু এই দম্পতি নয়, আমরা প্রত্যেকে যেন নিজ নিজ মা-বাবার প্রতি দায়িত্বশীল হই। আজ আমরা যা দেব, আগামীতে নিজেদের বার্ধক্যেও হয়তো সেটাই ফিরে পাব..!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *