স্পেনের শিরোপার আড়ালে বিশ্বকাপে ঘটেছে আরও বড় ইতিহাস!..see more

ফিফা বিশ্বকাপের পর্দা নেমেছে ঠিকই। কিন্তু তার রেশ এখনো রয়ে গেছে। ম্যাচের উত্তেজনা, রোমাঞ্চ, শিরোপা নির্ধারণ সব হয়ে গেছে। কিন্তু বিশ্বকাপের রেকর্ডবুক এখনও চলমান। ফিফা বিশ্বকাপের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়েছে ২০২৬ আসর। কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে যৌথভাবে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টে স্টেডিয়ামে বসে খেলা উপভোগ করেছেন ৬৮ লাখ ১০ হাজার ৯৬৬ জন দর্শক, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ।

প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হওয়া এই বিশ্বকাপে ৩৯ দিনে মোট ১০৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি ম্যাচে গড়ে ৬৫ হাজার ৪৯০ জন দর্শক মাঠে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ৬৪টি ম্যাচে স্টেডিয়ামে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৪ লাখ। আর ১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে ৫২ ম্যাচে গড়া আগের রেকর্ডও ভেঙে দিয়েছে এবারের আসর।

ফিফার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, টুর্নামেন্টজুড়ে স্টেডিয়ামগুলোর গড় আসন পূর্ণ হওয়ার হার ছিল ৯৯.৭ শতাংশ। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট, প্রায় সব ম্যাচেই ছিল উপচে পড়া দর্শক।

নিউইয়র্ক-নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ম্যাচের ১০৬তম মিনিটে জয়সূচক গোল করেন ফেরান তোরেস। ফাইনালটি সরাসরি স্টেডিয়ামে উপভোগ করেন প্রায় ৮০ হাজার ৬৬৩ জন দর্শক।

৩২ থেকে ৪৮ দলে বিশ্বকাপ সম্প্রসারণের মাধ্যমে আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেয় ফিফা। এর ফলে ম্যাচের সংখ্যা, দর্শক উপস্থিতি এবং আয়; সব ক্ষেত্রেই নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসর।

মাঠের লড়াইয়েও ছিল গোলের বন্যা। পুরো টুর্নামেন্টে ৩০৮টি গোল হয়েছে, অর্থাৎ প্রতি ম্যাচে গড়ে ২.৯৬টি গোল।

বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে স্পেন আরেকটি ইতিহাসও গড়েছে। পুরুষ ও নারী দুই বিভাগের বিশ্বকাপ শিরোপা একসঙ্গে জেতা প্রথম দেশ হিসেবে নাম লিখিয়েছে স্পেন।

শুধু গ্যালারিতে নয় টিভি সম্প্রচারেও নতুন রেকর্ড হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্পেন ও আর্জেন্টিনার মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচটি ৬ কোটির বেশি মানুষ দেখেছেন, যা দেশটির ফুটবল সম্প্রচারের ইতিহাসে নতুন রেকর্ড।

ফক্স স্পোর্টস মঙ্গলবার জানিয়েছে, তাদের ইংরেজি ভাষার সম্প্রচারে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের ম্যাচটি দেখেছেন ৩ কোটি ৮৯ লাখ ৩৭ হাজার দর্শক। ম্যাচ চলাকালে সর্বোচ্চ সময়ে দর্শকসংখ্যা পৌঁছায় ৫ কোটি ১৬ লাখ ৮৫ হাজারে। নিলসেন মিডিয়া রিসার্চের তথ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ইংরেজি ভাষার ফুটবল সম্প্রচার।

অন্যদিকে, স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচারকারী টেলেমুন্দোর প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, তাদের মাধ্যমে ম্যাচটি দেখেছেন আরও ২ কোটি ২৬ লাখ দর্শক। ফলে দুই সম্প্রচার মাধ্যম মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ফাইনালটি উপভোগ করেছেন ৬ কোটিরও বেশি মানুষ।

৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এবারের বিশ্বকাপ দর্শক উপস্থিতি, টেলিভিশন রেটিং এবং বৈশ্বিক আগ্রহ; সব দিক থেকেই নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *