শনিবারের মধ্যে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি!

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন আগামী ২৫শে জুলাইয়ে মধ্যে পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করবেন বলে বিশ্বস্ত সূত্র নিশ্চিত করেছে। আর এই পদত্যাগের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধ্যায়ের অবশেষে সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে।
সূত্র জানায়, সরকারের উচ্চ মহল থেকে রাষ্ট্রপতিকে ইতোমধ্যেই জানিয়ে দেয়া হয়েছে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করার কথা। বলা হয়েছে ২৫ জুলাইয়ের আগেই তিনি যেন এই পদত্যাগপত্রে সই করেন। অর্থাৎ এবারের ৫ আগস্টের আগেই দেশ একজন নতুন রাষ্ট্রপতি পেতে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য অনেকের নাম নিয়ে গুঞ্জন থাকলেও বলা হয়েছে শেষ মুহূর্তে যদি সরকার কাউকে তার রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমকেই হয়ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিতে হতে পারে। পরবর্তীতে হয়ত সুবিধাজনক সময়ে সরকার বিচার-বিবেচনা করে নিজেদের সিনিয়র কোনো নেতাকে রাষ্ট্রপতি পদের জন্য বিবেচনা করবে।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামী, জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন ধরেই রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ব্যাপারে আপত্তি জানিয়ে আসছিলো। পাঁচ আগস্টের মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ না করলে, জামায়াত বা সমমনা দলগুলো ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে, সরকারের কাছে এরকম গোয়েন্দা তথ্য আছে। মূলত এ কারণেই বর্তমান সরকার রাষ্ট্রপতির ব্যাপারে আর ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিএনপির সিনিয়র কয়েক নেতা আলোচনায় রয়েছেন। এরমধ্যে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

এদিকে, সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন বিবেচনায় দলীয় নেতাদের বাইরে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বর্তমান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণিও। তিনি বিএনপি আমলের প্রভাবশালী নেতা ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের একান্ত সচিব (পিএস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এই কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তাকে রাজনৈতিকভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে পুনরায় চাকরিতে ফিরিয়ে আনে। প্রথমে তাকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সচিব, পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *