রা’ষ্ট্রপতি অপসারণে বা’ধা দেওয়া উপদে’ষ্টাদের নাম প্রকাশ করলেন ফারুক হাসান….see more

জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ আন্দোলনে বাধা দেওয়া উপদেষ্টাদের নাম প্রকাশ করলেন গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি ফারুক হাসান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদের আইকন’ রাষ্ট্রপতি দীর্ঘদিন স্বপদে বহাল থাকার জন্য প্রথম দায়ী হলেন তৎকালীন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলম।

কারণ তারা বঙ্গভবনের সামনে রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের আন্দোলন বন্ধ করতে এই তিনজন আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। এরপর তাদের নির্দেশে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ারশেল মেরে আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে।

সম্প্রতি একটি অনলাইনের আলাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।

বঙ্গভবনের সামনে আন্দোলন নিয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের দাবিতে বঙ্গভবনের সামনে এনসিপি, বিএনপি ও জামায়াতের কর্মীসহ আমরা আন্দোলন করছিলাম।

হঠাৎ তৎকালীন উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমরা আমার ফোনে শত শতবার কল দেন। আমাকে অনুনয়-বিনয় করে বলে, ‘ভাই যে কোনো মূল্যে এই আন্দোলনটা বন্ধ করতে হবে’।

আমরা বললাম, ফিরে আসব মানে? এটা তো আমাদের গণদাবি। তোমরা সরকারে আছ। সরকারকে চাপ দাও, প্রধান উপদেষ্টাকে গিয়ে ধর। উপায় বের কর। আমি নিজে নাহিদকে বলেছি—আমার ফোনে অসংখ্যবার কল দিয়েছে তারা।

ফারুক হাসান বলেন, আমরা যখন নিজেদের দাবিতে অটল ছিলাম, তখন ফোনে তারা জানাল, ভাই তাহলে কিন্তু আমরা পুলিশকে অ্যাকশনে যেতে নির্দেশ দেব। এরপর তাদের নির্দেশে সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল মেরে পুলিশ আমাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

তিনি আরও বলেন, সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিনের অপসারণ নিয়ে এখন অনেক কথা হচ্ছে।

বিএনপিকে অনেকেই দায়ী করে গালিও দিচ্ছেন। হ্যাঁ, আমিও বিএনপিকে দায়ী করতে চাই; কিন্তু বিএনপিকে দায়ী করার আগে আমি প্রশ্ন করতে চাই, এই শাহাবুদ্দিন যে এতদিন তার চেয়ারে বহাল থাকলেন এটার জন্য কি একা বিএনপি দায়ী?

পৃথিবীর ইতিহাসে যতগুলো গণ-অভ্যুত্থান হয়েছে, এর পরে আর কখনোই ফ্যাসিবাদের কোন প্রোডাক্ট বা আইকন কোনো চেয়ারে থাকার সুযোগ পায় না।

বিএনপির দিকে আঙুল তোলার আগে বিগত সরকারের দিকেও তোলা উচিত জানিয়ে ফারুক হাসান বলেন, ওরা মিডিয়ার সামনে এসে প্রকাশ্যে বলে দিতে পারত যে, আমরা রাষ্ট্রপতি অপসারণের আলোচনা করছি, এখানে বিএনপি বাধা দিচ্ছে। যেমন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়টিতে প্রথম দিকে বিএনপি পক্ষে ছিল না। পরে এক প্রকার বাধ্য হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *