সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিএনপি নেতা ও পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সঙ্গে এক হিন্দু তরুণীর অন্তরঙ্গ ভিডিও এবং হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশটের সত্যতা অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর নানা তথ্য উঠে এসেছে। অনুসন্ধানী মাধ্যম ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর অনুসন্ধানে ফাঁস হওয়া স্ক্রিনশট ও ছবিতে দৃশ্যমান তরুণী এবং প্রতিমন্ত্রীর মোবাইল নম্বরের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
ভাইরাল হওয়া হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথনের স্ক্রিনশট ও বিকাশ অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে জানা যায়, উক্ত মোবাইল নম্বরটি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপীর ইউনিয়নের এক হিন্দু তরুণীর। ওই এলাকাটি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদেরও নিজ গ্রাম। মুঠোফোনে যোগাযোগের পর ১৯৯৫ সালের জুন মাসে জন্ম নেওয়া ওই তরুণী নিশ্চিত করেন যে, ভাইরাল স্ক্রিনশটে থাকা শাড়ি পরিহিত ছবিটি তাঁরই। তবে উক্ত ছবি সেখানে কীভাবে গেল বা অন্যান্য কনটেন্টের বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, একাধিক এআই টুলে পরীক্ষা করেও ছবিটিতে কোনো কৃত্রিম কারসাজির প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই তরুণীর বাবা মারা যাওয়ার পর ছোটবেলা থেকেই তাঁর পড়াশোনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ফরহাদ হোসেন আজাদ। ২৮ জুলাই মঙ্গলবার রাতে ‘দ্য ডিসেন্ট’-এর প্রতিবেদক ওই তরুণীর সঙ্গে কথা বলার ঠিক ১৩ মিনিটের মাথায় রাত ১০টা ০২ মিনিটে প্রতিবেদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদের সরকারি নম্বর থেকে একটি কল আসে। পরবর্তীতে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে সরাসরি উত্তর না দিয়ে প্রতিবেদককে তাঁর দপ্তরে গিয়ে চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া অপর একটি ছবি ও ভিডিওতে এক তরুণীকে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে মোবাইল দিয়ে সেলফি তুলতে দেখা যায়। ছবিটিতে যে কভারযুক্ত মোবাইলটি দেখা গেছে, ঠিক একই রকম কভারযুক্ত মোবাইল নিকট অতীতে ব্যবহার করেছেন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, যা তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক প্রোফাইলের ছবিতেও বিদ্যমান রয়েছে। হিন্দু তরুণীর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর এই অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও ফাঁসের ঘটনাটি বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।