একজন স্ত্রী তিনটি জায়গায় উলঙ্গ হলেও গুনাহ নেই — ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলাম শালীনতা ও লজ্জাশীলতাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছে। তবে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলাম কিছু বিষয়কে বৈধ ও স্বাভাবিক হিসেবে অনুমতি দিয়েছে। অনেক সময় সামাজিকভাবে কিছু বিষয়কে অতিরঞ্জিত করে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়। তাই ইসলামের সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি জানা জরুরি।
স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পর্দার বিধান সাধারণ মানুষের মতো নয়। একে অপরের সামনে উলঙ্গ হওয়া ইসলামে বৈধ। তবে কিছু নির্দিষ্ট স্থানে বা অবস্থায় শালীনতা বজায় রাখা উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন ইসলামি স্কলাররা।
১. স্বামীর সামনে
স্বামীর সামনে স্ত্রী সম্পূর্ণ উলঙ্গ হতে পারবেন। একইভাবে স্ত্রীর সামনে স্বামীও হতে পারবেন। এতে কোনো গুনাহ নেই। কোরআনে আল্লাহ বলেন—
“তারা তোমাদের জন্য পোশাক এবং তোমরা তাদের জন্য পোশাক।”
— সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৭
এই আয়াত স্বামী-স্ত্রীর গভীর ঘনিষ্ঠতা ও বৈধ সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে।
২. নিজ ঘরে একান্ত অবস্থায়
একজন নারী যদি নিজের ব্যক্তিগত ঘরে একা থাকেন, তাহলে প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক খুলতে পারেন। গোসল, কাপড় পরিবর্তন বা বিশ্রামের সময় এতে গুনাহ নেই। তবে অকারণে সম্পূর্ণ উলঙ্গ অবস্থায় থাকা ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে।
হাদিসে এসেছে,
“আল্লাহ লজ্জাশীলতা পছন্দ করেন।”
— সুনানে তিরমিজি
৩. গোসলের সময়
গোসলের সময় উলঙ্গ হওয়া বৈধ। তবে সম্ভব হলে আড়ালযুক্ত স্থানে গোসল করা উত্তম। বিশেষ করে অন্যের দৃষ্টি থেকে নিজেকে নিরাপদ রাখা ইসলামের শিক্ষা।
ইসলামের মূল শিক্ষা কী?
ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর বৈধ সম্পর্ককে সহজ ও স্বাভাবিক রেখেছে। কিন্তু একইসঙ্গে শালীনতা, লজ্জাবোধ ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দিয়েছে। তাই ভুল ব্যাখ্যা বা অতিরঞ্জিত শিরোনামের বদলে কোরআন-হাদিসের আলোকে বিষয়গুলো বুঝতে হবে।