দাড়ি-টুপি দেখেই কাউকে ভালো মানুষ ভাববেন না। চরিত্রটাই আসল পরিচয়। আমি uiuএ পড়ি। আমাদের বাসা মগবাজার। প্রতিদিনের মতো ক্লাস শেষে BRTC বাসে বাসায় ফিরছিলাম। কারন BRTC বাসে সামনের দিকে নারীদের জন্য নির্ধারিত আসন থাকায় সেখানেই বসেছিলাম। আমার ঠিক পেছনের সিটে বসেছিল এই দাড়ি-টুপি পরা লোকটি। আমি হেডফোনে গান শুনছিলাম। হঠাৎ অনুভব করলাম, পেছন থেকে আমার পোশাকে টান লাগছে। নিচে তাকাতেই দেখি, লোকটি তাড়াতাড়ি তার হাত সরিয়ে নিল। প্রথমে ভেবেছিলাম হয়তো ভুল হয়েছে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবারও সে আমাকে স্পর্শ করার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়বার এমন হতেই আমি সঙ্গে সঙ্গে সামনে বসা এক আন্টিকে বলি এবং জোরে প্রতিবাদ করি। আমার পাশে বসা আন্টি আমাকে সাহস দেন, আর সামনে বসা আন্টি লোকটিকে বকাঝকা করে সরে বসতে বলেন। তখন লোকটি বলতে শুরু করে, “আমি বুঝিনি”, “ভুল হয়ে গেছে” মা মাফ করে দেও —এমন নানা অজুহাত। এখন আপনাদের কাছে আমার প্রশ্ন— বাসে নিজের সিটে বসা, জানালায় হাত রাখা বা সামনের সিটে মাথা ঠেকানো স্বাভাবিক। কিন্তু সামনের সিটের ফাঁক দিয়ে হাত নিয়ে গিয়ে একজন মেয়েকে স্পর্শ করার চেষ্টা—এটা কীভাবে ভুলবশত হয়? এটা কি কখনও স্বাভাবিক হতে পারে? আরও কষ্টের বিষয় হলো, বাসে এত মানুষ ছিল। কিন্তু ওই দুইজন আন্টি ছাড়া আর একজনও লোকটিকে কিছু বলেননি। সবাই যেন না দেখার ভান করে ছিলেন। সবাই বোবা। আজ যদি ওই জায়গায় আপনার মা, বোন বা মেয়ে থাকতেন, তাহলেও কি চুপ করে থাকতেন? আপনারা প্রতিবাদ করবেন না জন্য এদের মতো পশু পাবলিকলি এমন কাজ করার সাহস পায়। আর এগুলো করতে করতে এমন পশু গুলো বড় বড় খারাপ কাজ করে। তখন আপনাদের মাঝে থাকা মানুষ গুলোই প্রতিবাদ করতে নামে, ধর্ষকের বিচার চাই।
আর অন্যায় দেখেও নীরব থাকা মানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। একজন মানুষ যখন সাহস করে প্রতিবাদ করে, তখন তার পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। আর ওই লোকটিকে একটা কথাই বলতে চাই— আপনার কাছে যদি এই পোস্ট যায় তাহলে ভালো হয়ে যান চাচা। দাড়ি-টুপি পরে ধর্মের সম্মান নষ্ট করবেন না। ধর্ম মানুষকে সম্মান করতে শেখায়, নারীদের হয়রানি করতে নয়। আল্লাহ সব দেখেন। আজ হয়তো পার পেয়ে গেছেন, কিন্তু সবদিন পারবেন না। সময় থাকতে নিজের ভুল শুধরে নিন। আমি একা না থাকলে হয়তো খুব ভালো ভাবে শিখা দিতাম।
সবশেষে, প্রতিটি মেয়ের উদ্দেশে বলছি—কেউ আপনাকে অশোভনভাবে স্পর্শ করলে বা হয়রানি করলে চুপ থাকবেন না। প্রতিবাদ করুন। আপনার প্রতিবাদ হয়তো আরেকজনকে একই ঘটনার শিকার হওয়া থেকে বাঁচাবে। আল্লাহ আমাদের সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দিন এবং সকল নারীকে নিরাপদ রাখুন। আমিন।