আমাকে ‘সে*ক্স ডাক্তার’ বলে অপপ্র’চার চালাচ্ছে একটি মহল: তাসনিম জারা……see more

সাবেক এনসিপি নেত্রী ও চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে তাকে ‘সেক্স ডাক্তার’ ও ‘যৌন ডাক্তার’ বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার দাবি, আওয়ামী কর্মীরা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হেয় ও বিব্রত করতে এ ধরনের প্রচার চালাচ্ছেন। একইসঙ্গে তার নাম-ছবি ব্যবহার করে ওষুধ, স্লিমিং পণ্যসহ বিভিন্ন ওষুধ বিক্রির নামে প্রতারণা চলছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে কিছু আওয়ামী কর্মীরা আমাকে ‘সেক্স ডাক্তার’, ‘যৌন ডাক্তার’ বলে প্রচার করছেন। তাদের উদ্দেশ্য আমাকে হেয় করা, লজ্জা দেওয়া। যদিও ওনাদের এই প্রচার মিথ্যা (কারণ আমি মেডিসিনের ডাক্তার), তবুও আমি আজ পর্যন্ত এই অপপ্রচারের কোনো জবাব দেইনি দুইটা কারণে।’

‘এক. আমি যদি ব্যস্ত হয়ে বলতাম, ‘না না, আমি ওরকম ডাক্তার নই’, তাতে হয়তো ওনাদের বিকৃত ধারণাটাকেই সায় দেওয়া হতো যে যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হওয়া বুঝি সত্যিই লজ্জার। এতে অন্যায় হতো সেই ডাক্তারদের প্রতি, যারা যৌনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করেন। মানুষের এমন অনেক কষ্ট আছে, যা সে মা-বাবাকে বলতে পারে না, বন্ধুকে বলতে পারে না, এমনকি অনেক সময় নিজের স্বামী বা স্ত্রীকেও না। এদের পাশে সহায় হয়ে দাঁড়ান এই চিকিৎসকেরাই। তাদের হাতে ভাঙা সংসার জোড়া লাগে, নিঃসন্তান দম্পতির কোলে সন্তান আসে, গভীর হতাশা থেকে মানুষ আলোয় ফেরে। এমন মহান পেশার নাম গালি হবে কেন?

‘দ্বিতীয় কারণটা রোগীদের নিয়ে। আমি যদি এই ট্যাগ ঝেড়ে ফেলতে ব্যস্ত হতাম, তাহলে এমন ধারণায় সায় দেওয়া হতো যে যৌন সমস্যা নিয়ে কথা বলতে নেই। অথচ এই লজ্জার দাম প্রতিদিন গুনছে অসংখ্য মানুষ। সংকোচে ডাক্তারের কাছে যায় না, হাতুড়ের খপ্পরে পড়ে, ভুল ওষুধ খায়, বছরের পর বছর নীরবে কষ্ট সইতে থাকে। মাঝে মাঝে চোখে পড়ে যে কেউ কেউ লিখেছেন, ‘যৌন ডাক্তার এখন দেশ চালাবে!’ এসব দেখে করুণা হয়। এরা নিজেকে প্রগতিশীল বলে পরিচয় দিতে চান, অথচ সত্যিকারের প্রগতিশীলতার জন্য যে জ্ঞান আর সহানুভূতিশীল আচরণ শেখা প্রয়োজন, তা রপ্ত করতে পারেননি। ‘যৌন ডাক্তার’ কথাটাকে তারা গালি ভাবেন না-জানা থেকে, কূপমণ্ডূকতা থেকে। কুয়োর ভেতর থেকে আকাশটা ছোট দেখায়, সে দোষ তো আকাশের নয়।’

বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণ হিসেবে তাসনিম জারা লিখেছেন, ‘গতকাল রাতে এক শুভাকাঙ্ক্ষী একটা স্ক্রিনশট পাঠিয়েছেন। সেখানে দেখলাম, আমার নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুকে ১৬০টি বিজ্ঞাপন চলছে। এই অপপ্রচারের কৌশলটা লক্ষ্য করার মতো। প্রথমে আমার ছবির সঙ্গে অশ্লীল কথা জুড়ে ফেসবুকে বিজ্ঞাপন চালান; তারপর সেই বিজ্ঞাপনেরই স্ক্রিনশট ছড়িয়ে বলেন, ‘দেখুন, ইনি এই সব বিক্রি করেন! এমন অশ্লীল কথা বলেন!’ ওনাদের এই নাটকের সুযোগে নেমে পড়েছে একদল প্রতারক। আমার নাম-ছবি বসিয়ে বিক্রি করছে ওষুধ, স্লিমিং পণ্য, হরেক রকম ‘চিকিৎসা’।

নিজের নামে প্রচারিত এসব বিজ্ঞাপন থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব বলেন, ‘আমি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোনো দিন কোনো ওষুধ বিক্রি করিনি। কোনো স্লিমিং পণ্য বিক্রি করিনি। কোনো চিকিৎসা, কোনো ট্রিটমেন্ট বিক্রি করিনি। আমার নাম বা ছবি দিয়ে যেখানে যা-ই বিক্রি হচ্ছে, তার সবটুকুই প্রতারণা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *