ড. দিপু মনি কে মৃত্যুর আগে জেলে হুইল চেয়ারে দেখতে গেলেও শেষ দেখাটা আর…see more

হুইলচেয়ারে করে দীপু মনিকে দেখতে এসেছিলেন স্বামী, শেষ দেখাটা আর হলো না

দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর হুইলচেয়ারে করে কারাগারে বন্দি স্ত্রী ডা. দীপু মনিকে দেখতে এসেছিলেন ব্যারিস্টার তৌফিক নেওয়াজ। সেই সাক্ষাতের কয়েক মাসের মধ্যেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। ঘটনাটি এখন নতুন করে আবেগঘন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

গত ২৬ এপ্রিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হুইলচেয়ারে করে তৌফিক নেওয়াজকে নিয়ে আসেন স্বজনেরা। সেখানে তিনি তাঁর স্ত্রী দীপু মনির সঙ্গে দেখা করেন। ওই সময় তৌফিক নেওয়াজ দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং চলাফেরার জন্য হুইলচেয়ার ব্যবহার করতেন।

এরপর ১৮ আগস্ট রাতে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তৌফিক নেওয়াজ। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। দীর্ঘদিন ধরে তিনি কিডনি ও লিভারের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

স্বামীর মৃত্যুর সময় দীপু মনি ছিলেন মুন্সিগঞ্জ জেলা কারাগারে। খবর পাওয়ার পর স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার সুযোগ চেয়ে তাঁর পক্ষ থেকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়। পরে মুন্সিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ২০ আগস্ট সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টার প্যারোল মঞ্জুর করেন।

পরিবারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্যারোলে মুক্তির পর দীপু মনিকে ঢাকার কলাবাগানে নেওয়া হবে, যেখানে স্বামীর মরদেহ রাখা হবে। এরপর গুলশানের আজাদ মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফনের কথা রয়েছে।

একসময় অসুস্থ শরীর নিয়েও স্ত্রীকে শেষবারের মতো দেখতে আদালতে এসেছিলেন তৌফিক নেওয়াজ। সেই সাক্ষাতের পর আর দেখা হওয়ার সুযোগ পাননি দুজন। স্বামীর মৃত্যুর পর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে এবার তাঁকেই শেষ বিদায় জানাতে যাচ্ছেন দীপু মনি—ঘটনাটি তাই স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে গভীর আবেগের সৃষ্টি করেছে।

দীর্ঘদিনের দাম্পত্য জীবনে তাঁদের এক কন্যাসন্তান রয়েছে। তৌফিক নেওয়াজ পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ছিলেন এবং ধ্রুপদি সংগীতেরও চর্চা করতেন।

স্বামীর শেষ বিদায়ে অংশ নেওয়ার এই সুযোগ দীপু মনির জন্য নিঃসন্দেহে এক আবেগঘন মুহূর্ত। কয়েক মাস আগে হুইলচেয়ারে বসে যে মানুষটি স্ত্রীকে দেখতে এসেছিলেন, আজ তাঁর মরদেহের সামনে দাঁড়িয়েই শেষ বিদায় জানাতে হচ্ছে—এই বাস্তবতাই ঘটনাটিকে আরও বেদনাবিধুর করে তুলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *