এই যুবতী মেয়ে ওড়না ছাড়া কারওয়ান বাজারে যায় আর এই ভদ্রলোক বলে মা তুমি…

ভোররাতের দিকে অয়নের ঘুম ভেঙে গেল। তনুর ঘর থেকে মৃদু কান্নার শব্দ ভেসে আসছে। কান্নার শব্দ যেন বাইরে থেকে কেউ শুনতে না পায়, সম্ভবত সেইজন্যই মুখ চেপে ধরে কাঁদছে তনু। তারপরও অয়নের ঘুম ভেঙে গেল। সে খাট থেকে নামতে গিয়ে আবিষ্কার করলো, সালমা বেগম খাটের ঠিক পাশেই, নিচে মেঝেতে জায়নামাজের উপর শুয়ে আছেন। অয়ন আবছা অন্ধকারেই ঘুমন্ত মায়ের দিকে তাকিয়ে রইল। সালমা বেগমের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না, তবে তার পরনের সাদা শাড়ি আর তজবির দানাগুলো অন্ধকারেও যেন জ্বলজ্বল করছে। অয়ন আরো কিছুক্ষণ সেভাবেই বসে রইল। তার কেন যেন মনে হচ্ছে মা আজও খুব করে কেঁদেছে। তার খুব ইচ্ছে করছে মায়ের কোলের কাছে গিয়ে গুটিশুটি মেরে কিছুক্ষণ শুয়ে থাকতে, কিন্তু সে তা করলো না।

তনুর ঘর থেকে কথা বলার শব্দ আসছে। সাথে কান্নাও। অয়ন একবার ভাবলো সে উঠে তনুর ঘরের দিকে যাবে। কিন্তু পরক্ষণেই আবার মনে হলো, এত রাতে আপা দুলাভাইয়ের ঘরে যাওয়াটা কী তার ঠিক হবে? এই ভাবতে ভাবতেই ফজরের আজান দিয়ে দিলো। আজানের শব্দে সালমা বেগম ধড়ফড় করে উঠে বসলেন। অয়নকে বসে থাকতে দেখে আঁতকে ওঠা গলায় বললেন, অয়ন?

অয়ন বলল, হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল মা, তারপর আর ঘুম আসছিল না।

তাই বলে এভাবে বসে থাকবি? আমাকে ডাকলেই পারতি।

তোমাকে ডাকতে ইচ্ছা করছিল না মা।

কেন? ডাকতে ইচ্ছা করছিল না কেন?

অয়ন লজ্জা পাওয়ার ভঙ্গিতে বলল, তোমাকে দেখতে খুব ভালো লাগছিল মা। মনে হচ্ছিল তোমার ঘুম ভাঙিয়ে দিলেই আর তোমাকে এভাবে দেখতে পারব না।

কী সামান্য সহজ এইটুকু কথা। কিন্তু তাতেই সালমা বেগমের বুকের ভেতরটা যেন হুহু করা হাওয়ায় কেঁপে উঠল। তিন উঠে অয়নের পাশে বসলেন। তারপর অয়নের গালে, কপালে, বুকে হাত ছুঁইয়ে বললেন, শরীর খারাপ লাগছে না তো বাবা?

না, মা। শরীর ঠিক আছে।

তাহলে?

তাহলে কিছু না মা।

খিদে পেয়েছে?

নাহ্, এই সাত সকালে কারো খিদে পায়?

সালমা বেগম বুঝতে পারছিলেন না তিনি কী করবেন। বাইরে একটা-দুটো পাখি ডাকছে। পূবাকাশ ফর্সা হয়ে উঠছে। সালমা বেগম বললেন, আমি যাই, অযু করে নামাজটা পড়ে নেই।

Author: AdminTushar01

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *