স্ত্রীর দুধ পান করলে কি স্বামী-স্ত্রীর তালাক হয়ে যায়? জানুন ইসলামী বিধান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই একটি প্রশ্ন দেখা যায়—স্বামী যদি স্ত্রীর দুধ পান করেন, তাহলে কি তাদের স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক শেষ হয়ে যায় বা তালাক হয়ে যায়? বিষয়টি নিয়ে অনেকের মধ্যেই বিভ্রান্তি রয়েছে। ইসলামী ফিকহের প্রচলিত ব্যাখ্যা অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্ক স্বামী স্ত্রীর দুধ পান করলে এর কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক হয় না এবং তাদের নিকাহও বাতিল হয়ে যায় না।
দুধপানের মাধ্যমে যে ‘দুধ-সম্পর্ক’ বা রেজাআত প্রতিষ্ঠিত হয়, তার জন্য শিশুকালের নির্দিষ্ট বয়সের মধ্যে দুধপান করা গুরুত্বপূর্ণ। অধিকাংশ আলেমের মতে, শিশুর প্রথম দুই বছরের মধ্যে সংঘটিত দুধপানই মাহরাম সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে। প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দুধ পান করলে সাধারণত সেই একই বিধান প্রযোজ্য হয় না।
অর্থাৎ, কোনো স্বামী যদি স্ত্রীর দুধ পান করে ফেলেন, তাহলে তিনি স্ত্রীর ‘সন্তান’ হয়ে যান না এবং এর ফলে তাদের বৈবাহিক সম্পর্কও শেষ হয়ে যায় না। হানাফি ফিকহের একটি ফতোয়াতেও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্ত্রীর দুধ পান করার কারণে নিকাহ বাতিল হয় না।
তবে দুধ পান করা বৈধ কি না—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিছু ফতোয়া সূত্রে প্রাপ্তবয়স্ক স্বামীর স্ত্রীর দুধ পান করাকে অনুচিত বা নিষিদ্ধ বলা হয়েছে, আবার অন্য কিছু আলেমের মতে দুধ মুখে চলে গেলে বা পান হয়ে গেলে তাতে বৈবাহিক সম্পর্কের কোনো প্রভাব পড়ে না।
এ কারণে শুধু এমন একটি ঘটনার কারণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তালাক হয়ে গেছে—এমন দাবি সঠিক নয়। তালাক একটি আলাদা আইনগত ও শরিয়াহগত বিষয়; দুধ পান করার ঘটনাকে তার সঙ্গে সরাসরি সমান করা ঠিক হবে না।
তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার ক্ষেত্রে যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এ নিয়ে বিরোধ, তালাকের উচ্চারণ বা অন্য কোনো জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে স্থানীয় নির্ভরযোগ্য আলেম বা মুফতির কাছে পুরো ঘটনা বিস্তারিত জানিয়ে ব্যক্তিগত ফতোয়া নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
সংক্ষেপে: স্ত্রীর দুধ পান করার কারণে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তালাক হয় না এবং নিকাহ ভেঙে যায় না—তবে দুধ পান করার বিধান নিয়ে ফিকহে মতভেদ রয়েছে।