পু*’লিশ স্বা’মীকে নিতে এসেছে, আর স্ত্রী বললেন “ভোর হওয়ার আগে আমি দরজা খুলবো না!… See more

পুলিশ স্বামীকে নিতে এলে দরজা খুলতে রাজি হননি স্ত্রী, ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেছিলেন

রাজনীতির মাঠে দীর্ঘ পথচলায় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে রাজনৈতিক জীবনের নানা সংগ্রামের কথা বলতে গিয়ে এবার তিনি স্মরণ করেছেন এমন এক ঘটনা, যেখানে কঠিন পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সাহসিকতা ও দৃঢ়তার কথা উঠে এসেছে। তার নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, এক রাতে পুলিশ তাদের বাসায় অভিযান চালালে স্ত্রী তাৎক্ষণিকভাবে দরজা খুলতে রাজি হননি।

সম্প্রতি নিজের পারিবারিক জীবন ও রাজনৈতিক পথচলা নিয়ে কথা বলার সময় মির্জা ফখরুল স্ত্রীকে তার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনে নানা ঝুঁকি ও প্রতিকূলতার সময় রাহাত আরা বেগম সবসময় সাহসের সঙ্গে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মির্জা ফখরুলের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০১৩ বা ২০১৪ সালের দিকে এক রাতে তাদের বাসায় পুলিশ অভিযান চালায়। ওই সময় পুলিশ তাকে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু পরিস্থিতি দেখে তার স্ত্রী দরজা খুলতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি পুলিশকে জানান, ভোর হওয়ার আগে দরজা খুলবেন না।

ঘটনাটি সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি দরজা খুলবো না। ভোর হওয়ার আগে পর্যন্ত আমি দরজা খুলবো না।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, এরই মধ্যে বিষয়টি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে ভোরবেলায় দরজা খোলা হলে পুলিশ তাকে নিয়ে যায়।

এই ঘটনাটি উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল তার স্ত্রীর সাহসিকতার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, রাজনৈতিক জীবনের কারণে পরিবারকে অনেক অনিশ্চয়তা ও কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। কিন্তু এসব পরিস্থিতিতে তার স্ত্রী কখনো তাকে একা করে দেননি।

শুধু ওই রাতের ঘটনাই নয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে পরিবারের ওপর নানা ধরনের চাপ এসেছে বলেও জানান মির্জা ফখরুল। তার মতে, একজন রাজনীতিবিদের সংগ্রামের পেছনে পরিবারের সদস্যদেরও অনেক ত্যাগ থাকে, যা সাধারণত জনসমক্ষে খুব বেশি আলোচিত হয় না।

স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, তিনি কখনো তাকে রাজনীতি করার কারণে বিরক্ত করেননি। বরং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সাহস জুগিয়েছেন এবং পরিবারের দায়িত্ব সামলেছেন। রাজনৈতিক জীবনের কঠিন সময়গুলোতে স্ত্রীর এই সহযোগিতাকে তিনি বিশেষভাবে মূল্য দেন।

মির্জা ফখরুলের কথায়, তার স্ত্রী শুধু জীবনসঙ্গী হিসেবে নয়, সংকটের সময় একজন সাহসী সহযোদ্ধার মতো পাশে ছিলেন। পুলিশ তাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও স্ত্রী তার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে দিয়েছিলেন বলে তিনি স্মৃতিচারণ করেন।

রাজনৈতিক জীবনের সাফল্য নিয়ে আলোচনা হলে সাধারণত নেতার কর্মকাণ্ডই সামনে আসে। কিন্তু একজন রাজনীতিবিদের দীর্ঘ পথচলায় পরিবারের ভূমিকা অনেক সময় আড়ালেই থেকে যায়। মির্জা ফখরুলের এই স্মৃতিচারণ সেই অদৃশ্য ত্যাগের কথাই নতুন করে সামনে এনেছে।

বিশেষ করে ‘ভোর হওয়ার আগে দরজা খুলব না’—স্ত্রীর সেই অবস্থান এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ভাইরাল পোস্টে ঘটনাটিকে অনেক সময় বর্তমান সময়ের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বাস্তবে এটি মির্জা ফখরুলের নিজের বক্তব্যে উঠে আসা অতীতের একটি পুলিশ অভিযানের স্মৃতি।

সবশেষে, মির্জা ফখরুল তার স্ত্রীকে নিজের জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তিগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের নানা ঝড়-ঝাপটা পেরিয়ে দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে রাহাত আরা বেগমের সাহস, সহযোগিতা ও ত্যাগকে তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেছেন। তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে আবারও সামনে এসেছে—একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের পেছনে পরিবারের নীরব সমর্থন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *