অবশে’ষে আজ স’/ন্ধ্যায় রা’/মিসা বাবাকে পু’/*লিশ থা’/নায় নি…see more

রামিসা হত্যা মামলায় বাবার বক্তব্য ঘিরে নতুন আলোচনা, সামনে এলো ঘটনার বিস্তারিত

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যা মামলাকে ঘিরে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লাকে পুলিশ থানায় নিয়ে যাওয়ার একটি দাবি ছড়িয়ে পড়লেও, এ দাবির পক্ষে সাম্প্রতিক কোনো নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

রামিসা হত্যা মামলাটি ২০২৬ সালের আলোচিত অপরাধ মামলাগুলোর একটি। রাজধানীর পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের একটি ভবন থেকে গত ১৯ মে রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করে।

মামলার এজাহার ও তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার দিন সকালে রামিসা বাসা থেকে বের হওয়ার পর তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে পাশের একটি ফ্ল্যাটে তার উপস্থিতির সূত্র পাওয়া যায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজন নারীকে হেফাজতে নেয় এবং পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরেক অভিযুক্ত সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঘটনার পর রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে এবং মামলাটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন হয়।

মামলার বিচার চলাকালে রামিসার বাবা ও মা আদালতে সাক্ষ্য দেন। বাবার সাক্ষ্যে ঘটনার দিন মেয়েকে খুঁজতে গিয়ে কীভাবে তারা ওই ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেছিলেন এবং পরে কী দেখেছিলেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত বিবরণ উঠে আসে। সাক্ষ্য দেওয়ার সময় তিনি আবেগাপ্লুতও হয়ে পড়েন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে মামলাটির রায়ও ঘোষণা করা হয়েছে। আদালতের কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, মামলার বিচার শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আদালত সিদ্ধান্ত দেয় এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে। রায়ের পর মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় ও ডেথ রেফারেন্স-সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘আজ সন্ধ্যায় রামিসার বাবাকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে’—এমন দাবির বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য কোনো সাম্প্রতিক প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। তাই শুধু ফেসবুক পোস্ট, ভিডিওর ক্যাপশন কিংবা অসম্পূর্ণ ‘See More’ শিরোনামের ভিত্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত সংবাদ হিসেবে প্রচার করা ঝুঁকিপূর্ণ।

রামিসা হত্যা মামলার মতো স্পর্শকাতর ঘটনায় কোনো নতুন তথ্য সামনে এলে সেটি পুলিশ, আদালত কিংবা নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে কারও আটক, গ্রেপ্তার বা থানায় নেওয়ার মতো দাবির ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়।

সব মিলিয়ে, রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা মামলার বাদী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন—এ তথ্য নিশ্চিত। কিন্তু ‘আজ সন্ধ্যায় তাঁকে পুলিশ থানায় নিয়ে গেছে’—এই নির্দিষ্ট দাবিটি বর্তমানে নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। নতুন কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া গেলে তখনই বিষয়টি আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *