সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত লায়লা আক্তার ফরহাদকে ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সম্প্রতি তাঁর চতুর্থ বিয়ে নিয়ে নানা খবর ছড়ানোর পর এবার ভাইরাল হয়েছে আরও একটি দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পোস্টে বলা হচ্ছে, লায়লা তাঁর চতুর্থ স্বামী মাহিনকে নাকি নিজের সমস্ত সম্পত্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ভাইরাল পোস্টে এমনভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন লায়লা ইতোমধ্যে তাঁর সব সম্পত্তি মাহিনের নামে লিখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ফেলেছেন। তবে এই দাবির পক্ষে লায়লার নিজের কোনো নির্ভরযোগ্য বক্তব্য, দলিল বা নিশ্চিত সংবাদ প্রতিবেদন এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি লায়লার সঙ্গে মাহিনের বিয়ের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লায়লা জানান, মাহিনের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিয়ের সিদ্ধান্ত আসে। কিছু প্রতিবেদনে তাঁদের পরিচয়ের সময়কালও মাত্র কয়েক ঘণ্টা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে তাঁদের বয়সের পার্থক্য নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে লায়লার বয়স ৫৫ বছর এবং মাহিনের বয়স ৩৫ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের সম্পর্কের ধরন, পরিচয়ের গল্প এবং বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
তবে লায়লার সম্পত্তি নিয়ে যে নতুন দাবি ছড়িয়েছে, সেটি আলাদা বিষয়। কোনো ব্যক্তির নিজের সম্পত্তি কাউকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলে সেটি প্রমাণের জন্য নির্ভরযোগ্য বক্তব্য বা আইনগত নথি থাকা জরুরি। শুধু ফেসবুক পোস্ট কিংবা ভিডিওর শিরোনামের ভিত্তিতে এমন দাবি সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না।
বিশেষ করে ‘সমস্ত সম্পত্তি’, ‘সবকিছু লিখে দিয়েছেন’ কিংবা ‘স্বামীর নামে করে দিয়েছেন’—এ ধরনের শব্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে আকর্ষণীয় করে তুলতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু বাস্তবে সম্পত্তি হস্তান্তর, দান বা উইল করার বিষয়গুলো আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই এ ধরনের দাবির ক্ষেত্রে মূল বক্তব্য বা নথি যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।
লায়লার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হয়েছে। তাঁর আগের সম্পর্ক ও বিয়ে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পোস্ট ছড়িয়েছে। এবার মাহিনকে বিয়ের পর সেই আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সাম্প্রতিক পোস্টগুলোতে কেউ তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে মন্তব্য করছেন, আবার কেউ সম্পত্তির বিষয়টিও সামনে আনছেন।
তবে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত সম্পত্তি নিয়ে তিনি ভবিষ্যতে কী করবেন—এটি তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। লায়লা নিজে যদি প্রকাশ্যে জানান যে তিনি মাহিনকে তাঁর সম্পত্তির কোনো অংশ দিতে চান, তাহলে সেটি তাঁর বক্তব্য হিসেবে সংবাদে উল্লেখ করা যেতে পারে। কিন্তু বর্তমানে ভাইরাল হওয়া দাবিকে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
ফলে ‘লায়লা তাঁর চতুর্থ স্বামী মাহিনকে সমস্ত সম্পত্তি দিয়ে দিয়েছেন’ বা ‘দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন’—এই দাবিটি আপাতত নিশ্চিত নয়। সাম্প্রতিকভাবে মাহিনের সঙ্গে তাঁর বিয়ের খবরের সত্যতা নিয়ে প্রতিবেদন থাকলেও সম্পত্তি হস্তান্তরের দাবিটি আলাদা এবং এর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সবশেষে, লায়লা ও মাহিনের বিয়ে নিয়ে আলোচনা যতই হোক, সম্পত্তি সংক্রান্ত কোনো তথ্য প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য বা আইনগত নথি যাচাই করা জরুরি। অন্যথায় একটি ভাইরাল দাবি মুহূর্তের মধ্যে সত্য ঘটনা হিসেবে