টিকটকার জান্নাত ও তার স্বামী তোহার নামে নতুন ব্যক্তিগত ভিডিওর দাবি, যা জানা গেল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফের আলোচনায় এসেছেন আলোচিত টিকটকার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর জান্নাত তোহা এবং তার স্বামী তোহা। সম্প্রতি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ও ওয়েবসাইটে তাদের নামে একটি নতুন ‘ব্যক্তিগত ভিডিও’ ছড়িয়ে পড়ার দাবি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুক, টিকটকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ভাইরাল হওয়া এই দাবির সত্যতা এখনো নির্ভরযোগ্য কোনো সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোথা থেকে ভিডিওটি এসেছে, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা সত্যিই জান্নাত ও তোহা কি না, কিংবা ভিডিওটি আদৌ তাদের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না—এসব বিষয়ে কোনো নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি কিছু ওয়েবসাইটে জান্নাত তোহার নাম ব্যবহার করে ‘ভাইরাল ভিডিও’ বা ভিডিওর লিংক দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। কিন্তু এসব সাইটের অনেকগুলোতেই যাচাইযোগ্য সংবাদসূত্রের পরিবর্তে দর্শকদের নির্দিষ্ট লিংকে প্রবেশ করানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে। এমনকি একটি সাম্প্রতিক ফ্যাক্ট-চেকধর্মী প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে যে জান্নাত তোহার নামে ছড়ানো একটি ভিডিওর লিংক ব্যবহার করে প্রতারণা বা ক্ষতিকর ওয়েবসাইটে নেওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।
এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্টে ‘নতুন ভিডিও’, ‘ব্যক্তিগত ভিডিও’ কিংবা ‘গোপন ভিডিও’ লেখা থাকলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়া উচিত নয়। অনেক সময় পরিচিত ব্যক্তি বা তারকার নাম ব্যবহার করে পুরোনো ভিডিও, সম্পাদিত ভিডিও, সম্পূর্ণ ভিন্ন ব্যক্তির ভিডিও কিংবা ভুয়া লিংক ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
জান্নাত ও তোহা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয়। তারা বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট ও ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন। ২০২৫ সালের একটি প্রতিবেদনে তাদের দুজনকে টিকটকে একসঙ্গে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশকারী কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। ওই সময় তোহাকে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও প্রতারণার একটি মামলায় গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানোর খবরও প্রকাশিত হয়।
অন্যদিকে, তাদের নিয়ে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের ভাইরাল দাবি ও গুজব ছড়িয়েছে। পুরোনো কিছু ওয়েবসাইটে তাদের নাম ব্যবহার করে ‘ভাইরাল ভিডিও’ নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট পাওয়া যায়। তবে এসব পোস্টের অনেকগুলোই নির্ভরযোগ্য সংবাদ প্রতিবেদন নয় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে দর্শকদের ভিডিও বা লিংকে প্রবেশ করানোর উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে বলে বোঝা যায়।
বর্তমান দাবির ক্ষেত্রেও একইভাবে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত বা গোপনীয় ভিডিও অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া যেমন ক্ষতিকর, তেমনি সেটির লিংক খোঁজা বা অন্যদের কাছে পাঠানোর মাধ্যমেও ভুয়া ওয়েবসাইট, ম্যালওয়্যার কিংবা প্রতারণার শিকার হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষ করে ‘ভিডিও দেখতে এখানে ক্লিক করুন’, ‘সম্পূর্ণ ভিডিও’, ‘অরিজিনাল লিংক’ বা ‘ডাউনলোড করুন’—এ ধরনের প্রলোভনমূলক পোস্টে ক্লিক করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। সাম্প্রতিক কিছু পোস্টে জান্নাত তোহার নাম ব্যবহার করে এমন লিংক ছড়ানোর বিষয়টি দেখা গেছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সেটির উৎস, প্রকাশের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই না করে সংবাদ হিসেবে প্রকাশ করা বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ভিডিওর ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও সংবেদনশীল। তাই যাচাই ছাড়া ভিডিওটি জান্নাত ও তোহার বলে প্রচার করা ঠিক হবে না।
সবশেষে বলা যায়, জান