ভাইরাল ওসির ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ মিডিয়ায় তুলে ধরলেন অভিযোগ, ‘স্বামী যে থানাতেই যান, সেখানেই নারী-বিয়ে’
রাজশাহীর চন্দ্রিমা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলমকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একটি ফ্ল্যাট থেকে এক নারীর সঙ্গে তাকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার পর নিজেকে তার ‘ষষ্ঠ স্ত্রী’ দাবি করা আন্নি আক্তার তার স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর বাসিন্দা নারী উদ্যোক্তা ও কনটেন্ট নির্মাতা আন্নি আক্তার দাবি করেন, চলতি বছরের শুরুতে মাহবুব আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। শুক্রবার সকালে তিনি রাজশাহীর নাদের হাজির মোড়সংলগ্ন একটি ফ্ল্যাটে গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন। দীর্ঘ সময় ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পাওয়ায় তিনি বিষয়টি পুলিশকে জানান। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে মাহবুব আলম ও এক নারীকে বের করে আনা হয়।
ঘটনাটি সামনে আসার পর আন্নি আক্তার সাংবাদিকদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তার দাবি, মাহবুব আলম যে জেলায় বা থানায় দায়িত্ব পালন করতে যান, সেখানেই তিনি বিয়ে করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বামীর একাধিক নারীর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তবে এসব অভিযোগ আন্নি আক্তারের বক্তব্য হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে; স্বাধীনভাবে সব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হয়নি।
অন্যদিকে, মাহবুব আলম ওই ফ্ল্যাটে থাকা নারীকে তার স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেই দাবির সমর্থনে তিনি ঘটনাস্থলে কোনো কাবিননামা দেখাতে পারেননি। একই সময়ে মাহবুব আলম দাবি করেন, আন্নি আক্তারকে তিনি চার দিন আগে তালাক দিয়েছেন। আন্নি অবশ্য জানিয়েছেন, তালাকের কোনো কাগজ তিনি পাননি।
ঘটনার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে কারণ ফ্ল্যাটের দরজা দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল। আন্নির ফোনের পর পুলিশ সেখানে যায় এবং পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে দুজনকে বের করে আনা হয়। পরবর্তী সময়ে আন্নি অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছিলেন, কিন্তু পরবর্তীতে তিনি লিখিত অভিযোগ করেননি বলে আরেকটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এদিকে প্রশাসনিক বিষয়ও সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাহবুব আলম অনুমতি ছাড়া কর্মস্থল ত্যাগ করে রাজশাহীতে গিয়েছিলেন বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে।
মাহবুব আলমকে ঘিরে এর আগেও আলোচনা হয়েছিল। ২০২৪ সালে চন্দ্রিমা থানার ওসি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে ঘুষের খাম নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল এবং পরে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে কালবেলার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বর্তমান ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের মন্তব্য ছড়িয়ে পড়লেও, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও বৈবাহিক বিষয়ে প্রচারিত সব দাবি যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে কারও বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্ক বা একাধিক বিয়ের মতো অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, আইনগত নথি ও নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য ছাড়া কোনো দাবিকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা উচিত নয়।
ঘটনাটি নিয়ে আইনগত বা প্রশাসনিকভাবে পরবর্তী সময়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর প্রকৃত অবস্থাও আরও পরিষ্কার হতে পারে।