প্রিন্স মামুন তার বউকে দিয়ে মিডিয়ার সামনে… এরপর যা জানা গেল
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে প্রিন্স মামুনকে ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তার স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনার সঙ্গে দাম্পত্য বিরোধ, মামলা এবং আদালতে তাদের বক্তব্যের বিষয়টি গত কয়েক মাস ধরে আলোচনায় রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন পোস্টে ঘটনাকে নানা রকম নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করা হলেও, সব দাবির সত্যতা পাওয়া যায় না। নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোহনা প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে যৌতুক দাবি ও নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেছিলেন। মামলার পর ২৪ জুলাই ২০২৬ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করা হয় এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতে মোহনার বক্তব্য
৩০ জুলাই মামলার জামিন শুনানিতে মোহনা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিচারক প্রিন্স মামুনকে তিনি পরিচিত বা ‘বিখ্যাত’ ব্যক্তি হিসেবে জানেন কি না জানতে চাইলে মোহনা তাকে বিখ্যাত বলে উল্লেখ করেন। পরে বিচারক জানতে চান, বিখ্যাত জেনেই কি তাকে বিয়ে করেছিলেন। জবাবে মোহনা জানান, তাদের বিয়ে হয়েছে পাঁচ মাস আগে এবং এই সময়ে তিনি অনেক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে, প্রিন্স মামুনের পক্ষের আইনজীবী আদালতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দেন। তারা দাবি করেন, ঘটনাটি একতরফা মারধরের ঘটনা নয়; বরং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল এবং মামলায় উল্লেখ করা কিছু অভিযোগ অতিরঞ্জিত। ফলে মামলার দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।
মামলার অভিযোগ কী?
মোহনার করা মামলার এজাহার অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলছিল। মামলায় প্রিন্স মামুনের বিরুদ্ধে এক কোটি টাকা যৌতুক দাবি এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়।
এজাহারে আরও দাবি করা হয়, ২৩ জুলাই রাতের একটি ঘটনায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মোহনাকে মারধর করা হয়। এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই মামলা করা হয়। তবে এগুলো মামলায় করা অভিযোগ, আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
পরে জামিনও পান প্রিন্স মামুন
ঘটনার পর কিছুদিন কারাগারে থাকার পর আগস্টে প্রিন্স মামুন তার স্ত্রীর করা দুটি মামলায় জামিন পান। ১৬ আগস্ট ২০২৬ জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যৌতুক ও নির্যাতনের মামলা এবং ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টার অভিযোগে করা মামলায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
এ কারণে বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নানা দাবি ছড়ালেও, প্রতিটি দাবি যাচাই না করে সত্য হিসেবে প্রচার করা ঠিক হবে না।
আসল বিষয় কী?
প্রিন্স মামুন ও মোহনার সম্পর্ক নিয়ে প্রকাশ্যে আসা তথ্য থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি মূলত তাদের দাম্পত্য বিরোধ, মামলা এবং উভয় পক্ষের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে। মোহনা তার অভিযোগ জানিয়েছেন এবং প্রিন্স মামুনের পক্ষ থেকেও অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তাই ‘প্রিন্স মামুন তার বউকে দিয়ে মিডিয়ার সামনে বিশেষ কিছু করিয়েছেন’—এ ধরনের নির্দিষ্ট দাবি যদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে থাকে, সেটি নিশ্চিত করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া সত্য হিসেবে প্রকাশ করা উচিত নয়।
ঘটনাটি নিয়ে আদালতের কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর পরবর্তী বক্তব্যই বিষয়টির পরবর্তী গতিপথ পরিষ্কার করবে। আপাতত নিশ্চিত তথ্য হলো—দাম্পত্য বিরোধকে কেন্দ্র করে মামলা হয়েছিল, প্রিন্স মামুন গ্রেপ্তার ও কারাগারে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে জামিন পেয়েছেন।