অবশে’ষে দেখা মি’লবে শেখ হা’সিনার! কবে, কো’থায়…see more

অবশেষে দেখা মিলবে শেখ হাসিনার! কবে, কোথায়?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে আবারও আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অবস্থান করা শেখ হাসিনা চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা একাধিকবার জানিয়েছেন। ফলে তার দেশে ফেরা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ঠিক কোন দিন, কোন পথে এবং কোথায় তিনি দেশে ফিরবেন—এসব বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো আনুষ্ঠানিক সময়সূচি প্রকাশিত হয়নি।

সম্প্রতি ভারত থেকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা আবারও ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন। এর আগে জুলাই মাসে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারেও তিনি বলেছিলেন, তিনি এবং আওয়ামী লীগের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা ডিসেম্বরের দিকে বাংলাদেশে ফিরে আদালতের মুখোমুখি হওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তিনি তখন দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার কথাও উল্লেখ করেন।

তাহলে কবে ফিরবেন শেখ হাসিনা?

শেখ হাসিনার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে ডিসেম্বরের ঠিক কোন তারিখে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করবেন, তা তিনি প্রকাশ করেননি। সেপ্টেম্বরের এক সাক্ষাৎকারেও তিনি ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ফেরার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি কী হবে, সেটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান।

এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘অমুক দিনে শেখ হাসিনা ফিরছেন’—এ ধরনের কোনো পোস্ট বা দাবি দেখলে সেটিকে নিশ্চিত খবর হিসেবে নেওয়ার আগে নির্ভরযোগ্য সূত্র যাচাই করা প্রয়োজন।

কোথা থেকে আসবেন?

শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে ভারতে অবস্থান করছেন। তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনের আলোচনায় তাই ভারত থেকে বাংলাদেশে ফেরার বিষয়টিই সামনে এসেছে। তবে তিনি ঠিক কোন বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করবেন বা কীভাবে দেশে ফিরবেন, সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে বাংলাদেশ সরকারও তাকে ফেরানোর বিষয়ে ভারতের সঙ্গে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে যোগাযোগ করে আসছে। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের করা প্রত্যর্পণের অনুরোধ তাদের কাছে রয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইনি ও বিচারিক প্রক্রিয়ার আলোকে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

দেশে ফিরলে কী হবে?

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে চলমান আইনি প্রক্রিয়া কার্যকর হবে—এমন অবস্থান বাংলাদেশ সরকারের একাধিক মন্ত্রী জানিয়েছেন। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জুলাই মাসে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং তিনি বাংলাদেশের এখতিয়ারে প্রবেশ করার পর আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।

এদিকে সেপ্টেম্বরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, শেখ হাসিনা ডিসেম্বর বা ফেব্রুয়ারিতে ফিরবেন কি না, সেটি সরকারকে কেন্দ্র করে আলোচনার বিষয় নয়। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে স্বেচ্ছায় ফেরার অপেক্ষায় না থেকে প্রত্যর্পণের মাধ্যমে দেশে আনার প্রচেষ্টার কথাও বলা হয়েছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনেও বাড়ছে আলোচনা

শেখ হাসিনার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও নানা আলোচনা চলছে। রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি দেশে ফিরে আদালতের সামনে দাঁড়াতে প্রস্তুত এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।

তবে তার প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে না। এর সঙ্গে প্রত্যর্পণ, আইনগত প্রক্রিয়া, নিরাপত্তা এবং তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর বিষয়ও জড়িত। ফলে ডিসেম্বরের কথা তিনি বললেও বাস্তবে কীভাবে এবং কোন পরিস্থিতিতে তার দেশে ফেরা হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

সব মিলিয়ে শেখ হাসিনার নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট দিন, সময়, বিমানবন্দর বা দেশে ফেরার আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়নি। তাই ‘অবশেষে দেখা মিলবে’—এই শিরোনামের পেছনে মূল তথ্য হলো তার ঘোষিত ডিসেম্বরের ফেরার পরিকল্পনা; এটিকে ইতোমধ্যে চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া প্রত্যাবর্তন হিসেবে দেখানো ঠিক হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *