জাতিসংঘে জাইমা রহমানের নতুন দায়িত্ব, দেশে শুরু আলোচনা—যা জানা গেল
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে ঘিরে বাংলাদেশে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে নানা ধরনের পোস্ট ও দাবি ছড়িয়ে পড়লেও, জাইমা রহমানের সঙ্গে জাতিসংঘের কোনো বিশেষ ‘চুক্তি’ হয়েছে—এমন তথ্য নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, জাইমা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমানের কার্যালয়ের এক্সিকিউটিভ অফিসের অধীনে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
কী দায়িত্ব পালন করবেন জাইমা?
লিগ্যাল অফিসার হিসেবে তার কাজ মূলত সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ের আইনি ও নীতিগত বিষয়গুলোতে সহযোগিতা করা। বিভিন্ন প্রস্তাব, চুক্তি, নীতিগত নথি এবং কার্যক্রম জাতিসংঘের নিয়ম ও প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না—এসব বিষয়ে আইনি বিশ্লেষণ ও পরামর্শ দেওয়ার মতো দায়িত্ব এ পদের সঙ্গে যুক্ত।
জাতিসংঘের সভাপতির কার্যালয়ে থাকা কর্মকর্তাদের তালিকায় জাইমা রহমানের নাম ও পদ উল্লেখ রয়েছে। সেখানে তাকে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে আইন ও নীতিবিষয়ক পেশাগত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যারিস্টার হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে একাধিক কর্মকর্তা
জাইমা রহমান একা নন, সাধারণ পরিষদের সভাপতির কার্যালয়ে আরও কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মকর্তা বিভিন্ন দায়িত্বে রয়েছেন। তাদের মধ্যে কেউ ডেপুটি চিফ অব ক্যাবিনেট, কেউ উপদেষ্টা, আবার কেউ তথ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন ও টেকসই উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে দায়িত্ব পালন করছেন।
এ কারণে বাংলাদেশের একজন নাগরিক হিসেবে জাইমা রহমানের জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে কাজ করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
নিয়োগ নিয়ে সরকারের বক্তব্য
জাইমা রহমানের নিয়োগ নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও বক্তব্য এসেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, জাইমার নিয়োগের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি জাতিসংঘের নিজস্ব নিয়ম, বিধি ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হয়েছে এবং নিয়োগের প্রশাসনিক ও আর্থিক বিষয় জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই পরিচালনা করে।
মাহদী আমিন আরও দাবি করেছেন, জাইমা রহমান যে পদে দায়িত্ব পেয়েছেন সেটি পি-৩ পর্যায়ের পেশাগত পদ এবং তার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে তা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তবে এ বিষয়ে যে কোনো মূল্যায়ন করতে হলে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রাথমিক নথি ও জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট অফিসিয়াল তথ্যকেই মূল ভিত্তি হিসেবে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।
‘জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি’—ভাইরাল দাবির বাস্তবতা কী?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘জাইমা রহমান জাতিসংঘের সঙ্গে চুক্তি করেছেন’ বা ‘বাংলাদেশ থেকে জাইমা রহমান জাতিসংঘের সঙ্গে বিশেষ চুক্তি করেছেন’—এ ধরনের শিরোনাম দেখা গেলেও, পাওয়া নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে এমন কোনো নির্দিষ্ট চুক্তির কথা উল্লেখ নেই।
বরং নিশ্চিত তথ্য হলো—তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাই নিয়োগ বা দায়িত্ব পাওয়ার ঘটনাকে সরাসরি কোনো নতুন আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
কেন বিষয়টি এত আলোচনায়?
জাইমা রহমান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মেয়ে হওয়ায় তার জাতিসংঘের এই দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক ও সামাজিক আলোচনার বিষয় হয়েছে। একদিকে তার শিক্ষা ও আইন পেশার অভিজ্ঞতার কথা সামনে আসছে, অন্যদিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল কি না—এমন প্রশ্নও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উঠছে।
সরকারের পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হয়েছে, নিয়োগটি জাতিসংঘের নিজস্ব প্রক্রিয়ায় হয়েছে এবং বাংলাদেশের সরকারি প্রতিনিধিদলের অংশ হিসেবে তিনি সেখানে দায়িত্ব পাননি।
সব মিলিয়ে, বর্তমানে নিশ্চিত তথ্য হলো জাইমা রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির কার্যালয়ে লিগ্যাল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আর ‘বিশেষ চুক্তি’ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব দাবি ছড়াচ্ছে, সেগুলোর পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সামনে এলে তার দায়িত্বের প্রকৃতি, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট নথি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে।