ইনি নিহত তাজমিনদের বাসার পাশের প্রতিবেশী মহিলা৷ সাংবাদিকদের এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “মেয়েটা আমার ছেলের বয়সী ছিলো। আমাদের চোখের সামনে ছোট থেকে বড় হয়েছে। কিন্তু ওর বড় হওয়াটা আর দশটা সাধারণ বাচ্চার মতো ছিল না। মেয়েটার মা নিজে একজন গুরুতর মানসিক ও ব্রেন স্ট্রোকের রোগী”
একটা পরিবারে মা যখন নিজেই অসুস্থ থাকেন, তখন সেই সন্তানের জীবনটা কতটা কঠিন আর একাকী হতে পারে, তা আমরা প্রতিবেশী হিসেবে খুব কাছ থেকে দেখেছি। মায়ের এই অসুস্থতার কারণেই হয়তো তাজমিন কখনোই সেই অর্থে মায়ের পরিপূর্ণ কেয়ার বা আগলে রাখা ভালোবাসাটা পায়নি।
তাকে ছোটবেলা থেকেই ফুফু, চাচি আর ভাইয়াদের কাছে মানুষ হতে হয়েছে। আর এই মাতৃস্নেহের অভাব বা একাকীত্বই হয়তো তাকে প্রচণ্ড নরম, সরল আর বহির্মুখী করে তুলেছিল। ও এতটাই নিষ্পাপ আর সরল-সোজা ছিল যে কোনটা ভালো আর কোনটা খারাপ সেটা বোঝার মতো পরিপক্বতাই ওর আসেনি।
মাত্র ১৫ দিন আগেই তো মেয়েটার জন্মদিন গেল, অথচ আজ ও আমাদের মাঝে নেই। কুমিল্লা শহর আমাদের বাসা থেকে বড়জোর দুই-আড়াই ঘণ্টার পথ। কিন্তু সেই রাতে ঐ অটোরিকশাচালক এই সরল মেয়েটাকে ফুসলিয়ে নোয়াখালীর কাছাকাছি একদম প্রত্যন্ত এক গ্রামে নিয়ে গেল৷
মেয়েটা যদি একটু চালাক হতো বা সমাজটাকে চিনত, তাহলে হয়তো ঘাতকের কু-নজর আর চালবাজি ও ধরে ফেলতে পারত। ওই ন*’পশুটার চোখ ছিল মেয়েটার হাতের আইফোনটার দিকে, নাকি অন্য কোনো নোংরা নজরে ও এই কাজ করেছে ভাবলেই গা শিউরে ওঠে!
তাজমিনের মা-বাবা আজ পুরো নির্বাক৷ তাদের ওপর দিয়ে কী ঝড় যাচ্ছে, তা শুধু ওপরওয়ালাই জানেন। যারা এই কঠিন সময়েও ওনাদের বাড়ি গিয়ে খোঁচানো কথাবার্তা বলছেন, ওনাদের মানসিক চাপ বাড়াচ্ছেন, হাত জোড় করে বলছি, দয়া করে ওনাদের আর বিরক্ত করবেন না। ওনারা এমনিতেই শেষ হয়ে গেছেন।
আমাদের আর কোনো দাবি নাই। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে একটাই চাওয়া, এই নির্মম হ%ত্যাকাণ্ডের চরম দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই”
আসলে দূর থেকে অনেক কিছুই বলা যায় কিন্তু যার বিপদ সে জানে তার ভেতরে কতটা ক্ষত