কুমিল্লায় অপ্রতীম আর তাজমিনের হ*ত্যাকাণ্ডের প্যাটার্ন আমার কাছে অনেকটা একই রকম মনে হয়…see more

কুমিল্লায় অপ্রতীম আর তাজমিনের হ*ত্যাকাণ্ডের প্যাটার্ন আমার কাছে অনেকটা একই রকম মনে হয়!
অপ্রতিম ছিল ধনী বাবা-মায়ের আদরের সন্তান। মায়ের আইফোন ব্যবহার করত, বাসায় ছিল আরও দামি দামি ডিভাইস।
তাজমিনও ছিল উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে। তার কাছেও ছিল আইফোন।
দুজনের বয়সই কম ছিল। হয়তো তারা সবসময় বাবা-মায়ের কথা শুনত না, কিংবা বাবা-মা সন্তানদের যথেষ্ট সময় দিতে পারতেন না। তবে আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটা হলো, সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের নজরদারি ও দায়িত্ববোধ কি যথেষ্ট ছিল?
তাজমিনের বাবা কাজের প্রয়োজনে দিনের বেশির ভাগ সময় বাইরে থাকতেন। সন্তানকে দেওয়ার মতো সময় হয়তো তাঁরও কম ছিল। অপ্রতিমের ক্ষেত্রেও বিষয়টা একই রকম ছিলো৷
তাজমিন তার মা-বাবাকে মিথ্যা বলে মাত্র ১৭ দিনের পরিচয়ের একটি ছেলের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল। আর অপ্রতিম নিজের চেয়ে বয়সে বড় ছেলেদের সঙ্গে আড্ডা দিত, বাইকে ঘুরে বেড়াত।
একবার ভাবুন তো, এত অল্প বয়সে তাদের এই সাহসটা কোথা থেকে এল?
ছোটবেলায় আমাদের মায়েরা হয়তো এ কারণেই বারবার বলতেন, “সারাদিন যা-ই করো, সন্ধ্যার পর যেন বাসায় থাকো!”
আমি এই লেখাটা দুটো শিশুর দোষ খুঁজতে লিখছি না। কেউ ভুল বুঝবেন না। দুটো প্রাণ আর এই পৃথিবীতে নেই—এটা ভাবলেই খারাপ লাগে। এত অল্প বয়সে তারা এমন ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলো, যার পরিণতিতে তাদের জীবনটাই শেষ হয়ে গেল!
আমার কষ্টটা অন্য জায়গায়।
সন্তান জন্ম দিলেই কি বাবা-মায়ের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়?
নিজের সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে, কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে, কখন বাসায় ফিরছে! এসব বিষয়ে খোঁজ রাখা কি জরুরি নয়? সন্তানকে শুধু দামি ফোন, ভালো পোশাক আর আরাম-আয়েশ দিলেই কি দায়িত্ব শেষ? নাকি তাকে সময় দেওয়া, তার বন্ধুদের চেনা, তার চলাফেরা সম্পর্কে জানা এবং বিপদ সম্পর্কে সচেতন করাটাও সমান জরুরি?
জানি না, মর্ডান পরিবারগুলোতে এসব বিষয় কতটা গুরুত্ব পায়।
কারণ, সন্তানের হাতে আইফোন তুলে দেওয়া আধুনিকতা হতে পারে, কিন্তু তার জীবনে কী ঘটছে, তা জানার চেষ্টা করাটাই দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব।
আর আমাদের দেশের বাস্তবতায়, যেখানে অপরাধের শিকার হওয়ার পরও অনেক পরিবারকে বিচার পাওয়ার জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়, সেখানে সন্তানদের নিরাপত্তার বিষয়ে বাবা-মাকে আরও সচেতন হতে হবে।
তবে মনে রাখতে হবে, কোনো শিশুর সঙ্গে অপরাধ ঘটলে দায় অপরাধীরই। বাবা-মায়ের কোনো অবহেলা থাকলেও তা কখনোই অপরাধীর দায় কমায় না।
আপনার সন্তানকে শুধু বড় করে তোলা মানে দায়ীত্ব শেষ না৷ তাকে সময় দিন, তার খোঁজ রাখুন, তার বন্ধু হয়ে উঠুন। কারণ, আপনার সন্তানের জীবনে আপনার একটু বাড়তি মনোযোগ হয়তো অনেক বড় বিপদ থেকে তাকে রক্ষা করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *