ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর, জোরদার হচ্ছে সচেতনতামূলক কার্যক্রম
দেশে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে পাড়া-মহল্লায় নিয়মিত মাইকিং করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জুমার নামাজের খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্যও সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন তিনি।
২০২৬ সালের ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক সভায় এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর বরাত দিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করেছে। <Cite refs={[“turn201243search3″,”turn201243search2″,”turn201243search5”]}/>
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস গুরুত্বপূর্ণ
সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে রোগটির বিস্তার ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব স্থানে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। <Cite refs={[“turn201243news7″,”turn201243search3”]}/>
ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। বাড়ি, আঙিনা, ছাদ ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখা এবং মশার বংশবিস্তারের উপযোগী স্থানগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করার মাধ্যমে এই প্রচেষ্টা আরও কার্যকর হতে পারে।
পাড়া-মহল্লায় মাইকিং করে কী জানানো হবে?
নির্দেশনা অনুযায়ী, নিয়মিত মাইকিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন করার ব্যবস্থা নিতে হবে। এর মাধ্যমে বাসাবাড়ি ও আশপাশের জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা, পরিত্যক্ত পাত্র সরিয়ে ফেলা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরা যেতে পারে।
বিশেষ করে ফুলের টব, অব্যবহৃত বালতি, ড্রাম, টায়ার, ছাদের কোণ এবং পানি জমে থাকতে পারে এমন স্থানগুলো নিয়মিত পরীক্ষা করা জরুরি। কারণ এ ধরনের স্থানে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধের বার্তা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য মসজিদে জুমার নামাজের খুতবায়ও সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় আরও বেশি মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছানো সম্ভব হতে পারে। <Cite refs={[“turn201243search1″,”turn201243search3”]}/>
এ ধরনের উদ্যোগ সফল করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্যকর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রচার চালানো নয়, পাশাপাশি বাস্তবে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সেগুলো দূর করাও প্রয়োজন।
হাসপাতাল ও সরকারি আবাসিক এলাকার পরিচ্ছন্নতায় গুরুত্ব
সভায় সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার এবং হাসপাতাল প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। <Cite refs={[“turn201243search2″,”turn201243search5”]}/>
হাসপাতাল ও আবাসিক এলাকায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এসব স্থানে কোথাও পানি জমে থাকলে তা দ্রুত অপসারণ করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
ডেঙ্গু থেকে বাঁচতে সাধারণ মানুষের করণীয়
ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রত্যেক পরিবার কিছু সহজ পদক্ষেপ নিতে পারে:
- বাড়ির আশপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না।
- ফুলের টব, পানির পাত্র ও অন্যান্য পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
- দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে বাঁচতে উপযুক্ত প্রতিরোধক ব্যবহার করুন।
- শিশুদের শরীর যথাসম্ভব ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরান।
- জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করান।
- তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা শ্বাসকষ্টের মতো বিপজ্জনক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের জন্য শুধু মশা মারার কার্যক্রম যথেষ্ট নয়; মশার বংশবিস্তারের স্থান ধ্বংস করা এবং মানুষের সচেতনতা বাড়ানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কারা ছিলেন সভায়?
প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। <Cite refs={[“turn201243search2″,”turn201243search3”]}/>
শেষ কথা
ডেঙ্গু প্রতিরোধে পাড়া-মহল্লায় মাইকিং, জুমার খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য এবং সরকারি স্থাপনাগুলো পরিষ্কার রাখার নির্দেশের মূল লক্ষ্য হলো জনসাধারণকে সম্পৃক্ত করে রোগটির বিস্তার কমানো। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে সরকারি সংস্থার পাশাপাশি প্রতিটি পরিবার ও এলাকার বাসিন্দাদেরও নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে।
মনে রাখবেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুরু হয় নিজের বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ থেকে। কোথাও পানি জমে থাকতে দেখলে তা সরিয়ে ফেলুন, অন্যদের সচেতন করুন এবং অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।