নিখোঁজ হওয়ার আগে শেষ রাতে কী ঘটেছিল তাহসিফের সঙ্গে? মুখ খুললেন বন্ধু দ্বীপ
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির নিখোঁজ হওয়া এবং পরে তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন করে রহস্য তৈরি হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতে তাহসিফের সঙ্গে দীর্ঘ সময় কাটিয়েছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ছোট বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দ্বীপ। মোটরসাইকেল মেরামত, একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া এবং পরে আলাদা হয়ে যাওয়া—সেই রাতের ঘটনাগুলো নিয়ে প্রথমে সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন দ্বীপ।
কিন্তু পরবর্তী সময়ে তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া তাঁর বক্তব্যে নতুন তথ্য সামনে আসার কথা জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম। আগের বক্তব্যের সঙ্গে পরবর্তী বর্ণনার কিছু পার্থক্য থাকায় ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ওই রাতে ঠিক কী ঘটেছিল, তা এখনো তদন্তের বিষয়।
বন্ধুর ফোন পেয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় বন্ধু দ্বীপের সঙ্গে দেখা করতে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তাহসিফ। বের হওয়ার আগে তিনি মাকে জানিয়েছিলেন, দ্বীপের সঙ্গে কথা বলে ফিরে আসবেন। কিন্তু সেই বের হওয়াই হয়ে ওঠে পরিবারের জন্য গভীর উদ্বেগের কারণ।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম হেলাল সংবাদমাধ্যমকে জানান, রাত গভীর হওয়ার পরও ছেলে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তাঁর মাকে শেষবারের মতো বার্তা পাঠিয়ে জানিয়েছিলেন, তিনি বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু এরপর আর তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাঁর খোঁজ করতে থাকেন। পরদিন তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে তাঁরা ভেঙে পড়েন। তাহসিফের বাবা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহ প্রকাশ করেন এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
মোটরসাইকেল মেরামত থেকে শুরু হয়েছিল সেই রাতের ঘটনা
বন্ধু দ্বীপের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, তাহসিফের একটি মোটরসাইকেল নষ্ট হয়ে গ্যারেজে পড়ে ছিল। মোটরসাইকেল সম্পর্কে দ্বীপের কিছু ধারণা থাকায় তাহসিফ তাঁকে ডেকে পাঠান। এরপর দুজন মিলে মোটরসাইকেলটি চালু করার চেষ্টা করেন।
দ্বীপের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২০ মিনিট চেষ্টার পর মোটরসাইকেলটি চালু করতে সক্ষম হন তাঁরা। পরে প্রয়োজনীয় মেরামত এবং ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তনের জন্য উত্তরার একটি ওয়ার্কশপে যান।
মোটরসাইকেলের কাজ শেষ হওয়ার পর তাহসিফ তাঁকে একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার প্রস্তাব দেন। এরপর তাঁরা উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় যান। সেখানে খাবার খাওয়ার পাশাপাশি গল্পও করেন বলে দ্বীপ সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।
দ্বীপের দাবি, সেই সময় তাহসিফকে স্বাভাবিক ও হাসিখুশি দেখাচ্ছিল। তাঁর আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি বলেও জানান তিনি।
হাউজ বিল্ডিং এলাকায় আলাদা হয়ে যান দুজন
দ্বীপের প্রাথমিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাতের খাবার শেষে তাঁরা মোটরসাইকেল নিয়ে রওনা হন। পরে উত্তরার হাউজ বিল্ডিং এলাকায় দুজনের পথ আলাদা হয়ে যায়। দ্বীপ জানান, তিনি একদিকে চলে যান এবং তাহসিফ অন্যদিকে রওনা হন।
দ্বীপের দাবি, আলাদা হওয়ার পর তাহসিফ কোথায় গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর জানা নেই। বাসায় ফেরার পর তিনি তাহসিফের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন বলেও জানান। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়ায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
পরদিন সকালে আবারও যোগাযোগের চেষ্টা করেও একই পরিস্থিতি দেখতে পান বলে দ্বীপের বক্তব্য। তবে এই প্রাথমিক বর্ণনা থেকে আলাদা হয়ে যাওয়ার পর তাহসিফের সঙ্গে কী ঘটেছিল, তার কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি।
তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ
২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগ নদে মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উত্তরার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করেন।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। পরে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা মরদেহ গ্রহণ করেন।
তাহসিফের মরদেহ নদে কীভাবে গেল, তিনি সেখানে কেন গিয়েছিলেন এবং তাঁর মৃত্যুর পেছনে কোনো অপরাধমূলক ঘটনা ছিল কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত শুরু হয়। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানানো হয়।
তদন্তে নতুন বক্তব্য, আগের বর্ণনার সঙ্গে পার্থক্য
৩০ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদপ্রতিবেদন অনুযায়ী, তদন্তকারীদের কাছে দেওয়া পরবর্তী বক্তব্যে দ্বীপ দাবি করেন, তাঁরা তুরাগ নদসংলগ্ন একটি এলাকায় ছিলেন। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁদের ধাওয়া করেন বলে তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে। দ্বীপের দাবি অনুযায়ী, ওই পরিস্থিতিতে তাহসিফ নদে ঝাঁপ দেন এবং তিনি নিজে সেখান থেকে সরে যান।
তবে এই বক্তব্য এখনো তদন্তকারীদের যাচাইয়ের মধ্যে রয়েছে। দ্য ডেইলি স্টার-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তকারীরা দ্বীপের বর্ণনা নিয়ে পুরোপুরি নিশ্চিত নন এবং ঘটনার অন্যান্য দিকও খতিয়ে দেখছেন। আগের বক্তব্যে দুজনের হাউ