সন্তানের মুখের খাবার তুলে দিতে ছেলের বেশে রিকশা চালান ২২ বছরের মা! ঘরের চালের ড্রামে নেই এক মুঠো চাল।
রাস্তায় রিকশা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক তরুণকে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করেন, ‘তুমি যাবে?’ উত্তরে তরুণ বলেন, ‘হ্যাঁ, যাব, তবে ভাড়া ১০ টাকা বাড়িয়ে দিতে হবে।’ কথাবার্তার একপর্যায়ে তাঁর চেহারা ও আচরণ দেখে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তির মনে কৌতূহল জাগে। শুরু হয় তাঁর পরিচয় জানার চেষ্টা।
পরে তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায় এক হৃদয়স্পর্শী জীবনসংগ্রামের গল্প। জানা যায়, যাঁকে সবাই প্রথম দেখায় ছেলে মনে করছেন, তিনি আসলে একজন নারী। বয়স মাত্র ২২ বছর। চার বছর আগে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু স্বামী তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। এরপর থেকেই ছোট্ট সন্তানকে নিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর এক কঠিন জীবনসংগ্রাম।
তিনি আরো জানান, তাঁর বোন পাশের একটি বাসায় থাকতেন। একই বাড়ির মালিকের কাছে বোনের চার মাসের বাড়িভাড়া বাকি রেখে তিনি চলে গেছেন। সেই ভাড়ার জন্য বাড়ির মালিকের চাপও তাঁকে সামলাতে হচ্ছে। তাঁদের গ্রামের বাড়ি থাকলেও সেখানকার আর্থিক অবস্থা এতটাই খারাপ যে ফিরে গিয়ে জীবন চালানোর মতো পরিস্থিতি নেই।
তাই বাধ্য হয়েই রিকশা চালিয়ে সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
নিরাপত্তার কথা ভেবে ছেলের পোশাক পরে রাস্তায় বের হন, যাতে কেউ তাঁকে বিরক্ত করতে না পারে।
ঘটনার সত্যতা জানতে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি তাঁর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সত্যিই তাঁর একটি ছোট্ট সন্তান রয়েছে। সংসারের অভাব কতটা প্রকট, তা বোঝা যায় ঘরের চালের ড্রাম দেখেই—সেখানে এক মুঠো চালও নেই!
পরে আশপাশের মানুষের সঙ্গেও কথা বলা হয়। তাঁরাও জানান, তিনি একজন নারী এবং জীবিকার তাগিদেই ছেলের বেশে রিকশা চালান।
একজন মায়ের সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্য এমন সংগ্রাম সত্যিই হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো। সমাজে এমন কত মা আছেন, যাঁদের নীরব সংগ্রামের খবর আমরা রাখি না!
একটু সহানুভূতি, একটু সহযোগিতা হয়তো এই মা ও তাঁর সন্তানের জীবনে নতুন আশার আলো হয়ে উঠতে পারে।
আপনার চোখে এই মায়ের জীবনসংগ্রাম কেমন লাগল?
ছবিটা এআই দিয়ে এডিট করা হয়েছে কিন্তু সত্যিই মেয়েটার বাস্তব জীবনের গল্প শুনে বাস্তবতা কত কঠিন বুঝিয়ে দেয়