৯ মাস পলাতক আসামিকে ধরতে পুকুরে ঝাঁপ পুলিশ সদস্যের, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়ল আসামি
দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস ধরে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে পালিয়ে থাকা এক আসামিকে গ্রেপ্তার করতে গিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনার জন্ম দিয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। অভিযানের একপর্যায়ে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই আসামি পালানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচাতে পুকুরে ঝাঁপ দিলে তাঁকে ধরতে পেছন পেছন পানিতে ঝাঁপ দেন দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য।
ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তেই মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশ সদস্যের তৎপরতার কারণে শেষ পর্যন্ত পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়নি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা আসামি।
জানা যায়, মামলার পর থেকেই ওই ব্যক্তি দীর্ঘ সময় ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে অবস্থান পরিবর্তন করে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলছিলেন। প্রায় ৯ মাস ধরে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারে এবং অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে ওই ব্যক্তি দ্রুত পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে সামনে থাকা পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে সাঁতরে অন্য পাড়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু পুলিশ সদস্যরাও তাঁকে অনুসরণ করেন। পানির মধ্যে কিছুক্ষণ ধস্তাধস্তি ও ধাওয়ার পর তাঁকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়।
পুলিশের এই সাহসিকতায় স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা দেখা যায়। দায়িত্ব পালনের সময় নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে আসামিকে আটক করতে পানিতে ঝাঁপ দেওয়ার ঘটনাটি অনেকের নজর কেড়েছে।
পরে আটক ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলার নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও বাংলাদেশে দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আসামিদের গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটছে। যেমন, খাগড়াছড়ি জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া মো. শফিকুল ইসলামকে প্রায় ৯ মাস পর চট্টগ্রামের লালখান বাজার এলাকা থেকে যৌথ অভিযানে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
তবে পুকুরে ঝাঁপ দিয়ে পুলিশ সদস্যের আসামি ধরার এই নির্দিষ্ট ঘটনার স্থান, আসামির পরিচয় ও মামলার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রকাশ করা ঠিক হবে না।
ঘটনাটি আবারও দেখিয়ে দিল—পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান কতটা চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। আর দায়িত্ব পালনের সময় এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সাহসিকতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।