৫৭ বছর বয়সে বিয়ে করলেন বিধবা আমেনা বেগম। আর এই ‘অপরাধে’ তাঁর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিলেন গ্রামের প্রতিবেশীরা!
ঘটনাটি দিনাজপুরের নবাবগঞ্জের। বড়ই গাছের ডাল আর বাঁশ দিয়ে আমেনা বেগমের পুরো ঘরের চারপাশ এমনভাবে ঘিরে দেওয়া হয়েছে, যাতে তিনি ঘর থেকে বেরই হতে না পারেন। বলা হচ্ছে, গ্রামের সালিশের মুরব্বিদের সিদ্ধান্তেই নাকি এমনটা করা হয়েছে।
কারণ?
তিনি ৫৭ বছর বয়সে আবার বিয়ে করেছেন!
গ্রামবাসীর দাবি, এই বয়সে বিয়ে করা নাকি সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে লজ্জাজনক। এমনকি তাঁর এই বিয়ের কারণে তরুণ প্রজন্মের ওপরও ‘খারাপ প্রভাব’ পড়বে!
মানে, একজন বিধবা নারী দীর্ঘদিন একা থাকার পর নিজের ভবিষ্যৎ জীবনটা একটু ভালোভাবে কাটানোর জন্য, ধর্মীয় নিয়ম মেনে বিয়ে করলেন এটাই এখন সমাজের জন্য এত বড় সমস্যা!
কী অদ্ভুত এক সামাজিক নিয়ম আমরা বানিয়ে ফেলেছি!
সবচেয়ে কষ্টের বিষয়, আমেনা বেগম নাকি টানা ৫ দিন ধরে না খেয়ে অসুস্থ অবস্থায় ঘরে পড়ে আছেন। অথচ যাঁরা তাঁর বিয়েকে সমাজের জন্য ‘লজ্জার’ বিষয় মনে করছেন, তাঁরা কি কখনো খোঁজ নিয়েছেন এই মানুষটা একা কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন? অসুস্থ হলে কে তাঁর পাশে দাঁড়াবে? একবেলা খাবার জুটছে কি না?
বাস্তবতা হলো, আমাদের সমাজে একজন অসহায় মানুষ না খেয়ে থাকলে অনেকেরই তেমন মাথাব্যথা থাকে না। কিন্তু সেই মানুষটাই যদি নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত নিজে নিতে চান, তখন হঠাৎ সমাজ, সংস্কৃতি, সম্মান সবকিছু সামনে চলে আসে!
একজন প্রাপ্তবয়স্ক বিধবা নারী নিজের জীবনের জন্য একজন সঙ্গী বেছে নিলেন এতে কার কী ক্ষতি হলো?
আচ্ছা আপনারাই বলেন তো! আমেনা বেগম বিয়ে করে কি খুব বেশি অপরাধ করে ফেলছে?