টিকটকার প্রিন্স মামুনের ২য় স্ত্রী মোহনাকে দিয়ে ব্যা’বসার জন্য….see more

টিকটকার প্রিন্স মামুনের দ্বিতীয় স্ত্রী মোহনাকে দিয়ে ব্যবসার জন্য ১ কোটি টাকা চাওয়ার অভিযোগ

টিকটক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত মুখ প্রিন্স মামুনকে ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে তার দ্বিতীয় স্ত্রী আতিকিয়া ফাইজাহ মোহনার করা মামলা। মামলার অভিযোগে উঠে এসেছে, ব্যবসা বা দোকান দেওয়ার জন্য মোহনার কাছে ১ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোকে কেন্দ্র করে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করা হয়েছে।

মোহনা ২০২৬ সালের ২৪ জুলাই ভাটারা থানায় মামলাটি করেন। এরপর পুলিশ প্রিন্স মামুনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

কী অভিযোগ করেছেন মোহনা?

মামলার এজাহার অনুযায়ী, মোহনা একজন ফ্যাশন মডেল এবং মামুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল ঘটনার প্রায় পাঁচ মাস আগে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

মোহনার অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই মামুন তাকে ব্যবসা বা দোকান দেওয়ার জন্য তার পরিবারের কাছ থেকে ১ কোটি টাকা এনে দিতে বলতেন। তিনি ওই টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ২৩ জুলাই রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মোহনার বাসায় গিয়ে মামুন আবারও ওই টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে মারধরের ঘটনা ঘটে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মোহনা তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত পাওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করেছেন।

আদালতে কী ঘটেছিল?

মামলাটি আদালতে ওঠার পর প্রিন্স মামুনের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন। অপরদিকে বাদীপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে। আদালতে মোহনাও উপস্থিত ছিলেন।

শুনানির সময় বিচারক মোহনাকে প্রশ্ন করেন, তিনি মামুনকে বিয়ে করার সময় তার পরিচিতি সম্পর্কে জানতেন কি না। মোহনা জানান, তারা প্রায় পাঁচ মাস আগে বিয়ে করেছেন এবং এই সময়ে তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। এরপর উভয়পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত মামুনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।

পরবর্তীতে মামুনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলাতেও আইনি কার্যক্রমের খবর প্রকাশিত হয়। ২৩ জুলাই ফেসবুক লাইভে আত্মহত্যার চেষ্টা করার অভিযোগে মোহনা পৃথক মামলা করেছিলেন বলে bdnews24 জানিয়েছে।

‘ব্যবসার জন্য টাকা’ প্রসঙ্গটি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মামলার এজাহারে ব্যবসার জন্য টাকা চাওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ থাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি—১ কোটি টাকা চাওয়া, নির্যাতন করা বা ব্যবসার জন্য অর্থ দাবি করার বিষয়গুলো বর্তমানে মামলার অভিযোগ হিসেবে নথিভুক্ত; এগুলো আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।

অন্যদিকে মামুনের পক্ষের আইনজীবী শুনানিতে অভিযোগের ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। bdnews24-এর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি দুজনের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা এবং উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

ঘটনা এখন কোন পর্যায়ে?

প্রিন্স মামুন ও মোহনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক নিয়ে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের জুলাইয়ে করা মামলার পর বিষয়টি আইনি পর্যায়ে চলে যায়। আদালত মামুনকে জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা ভিডিও বা পোস্টের পাশাপাশি মামলার নথি ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই এখন বিষয়টির অগ্রগতি বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

সব মিলিয়ে, মোহনার অভিযোগ অনুযায়ী ব্যবসা/দোকান দেওয়ার জন্য তার কাছে ১ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছিল এবং টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর নির্যাতনের ঘটনা ঘটে বলে তিনি দাবি করেছেন। তবে অভিযোগের সত্যতা চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *