ঘ’/টনাটা শোনার পর থেকে মনটা একদম ভালো নেই…see more

উফ! ঘটনাটা শোনার পর থেকে মনটা একদম ভালো নেই। 💔 ঢাকার পিজি হাসপাতালে এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে যাবে, তা সত্যিই কেউ কল্পনাও করতে পারেনি! 😓

গাজীপুরের বোর্ডবাজারের কলমেশ্বর এলাকার ছোট্ট মেয়ে সামিয়া নূর। কামারজুরী ইউসুফ আলী হাই স্কুলের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ত সে। সামিয়ার মা পারুল আক্তার জরায়ুর টিউমার নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। কয়েক দিন পরই তাঁর অপারেশন হওয়ার কথা ছিল। মাকে দেখতে, মায়ের পাশে একটু সময় কাটাতেই হাসপাতালে গিয়েছিল ছোট্ট সামিয়া।

কিন্তু কে জানত, মাকে দেখতে গিয়ে এটাই হবে তার জীবনের শেষ যাত্রা!

শনিবার দুপুরে হাসপাতালের আটতলার ওয়ার্ডে মায়ের সঙ্গে কথা বলার একপর্যায়ে জানালার ফাঁকা জায়গা দিয়ে অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে যায় সামিয়া। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি। বিকেলেই চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তবে এই ঘটনার সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দিকটি হলো, সন্তান হারানো বাবা নুরুন্নবী মিয়ার আর্তনাদ! 😭

স্থানীয় বাজারে ছোট্ট একটি কনফেকশনারির দোকান চালিয়ে সংসার চালান তিনি। অথচ আজ সেই বাবার বুকটাই শূন্য হয়ে গেল। সন্তান হারানোর শোকে তাঁর কান্না যেন কিছুতেই থামছে না।

নুরুন্নবী মিয়া জানান, সামিয়া তাঁদের রক্তের সন্তান ছিল না। নিঃসন্তান এই দম্পতি মাত্র দুই-তিন বছর বয়সে সামিয়াকে দত্তক নিয়েছিলেন। এরপর থেকে নিজের সন্তানের মতোই নয়, বরং বুকের ভেতর আগলে রেখে পরম মমতায় বড় করেছেন তাকে।

সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সামিয়া কোনো দিন জানতেই পারেনি যে এই মা-বাবা তার জন্মদাতা নন। যাঁদের সে নিজের পৃথিবী বলে জানত, যাঁদের ভালোবাসা আর আদরে বেড়ে উঠেছিল, তাঁরাই ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ।

রক্তের সম্পর্ক না থাকলেও ভালোবাসার কোনো কমতি ছিল না। বরং বছরের পর বছর ধরে মায়া, মমতা আর দায়িত্ব দিয়ে তাঁরা গড়ে তুলেছিলেন এক পরিপূর্ণ পরিবার।

অথচ নিয়তির কী নির্মম পরিহাস! যে মেয়েটি মায়ের অসুস্থতার সময়ে মাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিল, সেই মেয়েকেই হারিয়ে আজ মা-বাবার পৃথিবী অন্ধকার হয়ে গেল। যে বাবার কাছে সামিয়া ছিল কলিজার টুকরা, সেই বাবাকেই আজ সন্তানের নিথর দেহের সামনে দাঁড়িয়ে শোকের সাগরে ডুবে থাকতে হচ্ছে।

একটি দুর্ঘটনা, কয়েক মুহূর্তের অসাবধানতা—আর তাতেই শেষ হয়ে গেল একটি নিষ্পাপ প্রাণ, ভেঙে চুরমার হয়ে গেল একটি পরিবারের সমস্ত স্বপ্ন।

সন্তান জন্ম দিলেই শুধু বাবা-মা হওয়া যায় না, ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেও বাবা-মা হওয়া যায়। সামিয়ার জন্য নুরুন্নবী মিয়া ও পারুল আক্তারের ভালোবাসা তারই এক মর্মস্পর্শী প্রমাণ। 💔

আল্লাহ ছোট্ট সামিয়াকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকাহত এই মা-বাবাকে সন্তান হারানোর অসহনীয় কষ্ট সহ্য করার শক্তি দিন। আমিন। 🤲

ওপারে ভালো থেকো, ছোট্ট সামিয়া। তোমার শূন্যতা কোনো দিন পূরণ হওয়ার নয়। 🥀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *